চুয়াডাঙ্গা সদরে জবেদা খাতুন (৪৫) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে মুকুল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের পিরোজখালী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, জবেদা খাতুন পিরোজখালী গ্রামের কাজীপাড়ার আহসান আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় জবেদা খাতুনের ছেলে মুকুল হোসেনকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশের সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। সঙ্গে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।
পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মুকুল মানসিক ভারসাম্যহীন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুকুলের তিন স্ত্রীর ডিভোর্স হয়ে গেছে। কোনো স্ত্রীর একটি সন্তানকে নিয়ে থাকত মুকুল। শনিবার বিকেলে খাবার খাওয়ার সময় মায়ের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে সে। পরে মুকুলের সন্তান স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। স্থানীয়রা এসে দেখে মায়ের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। আর মুকুল পাশের ঘরে চেয়ারে বসে আছে।’
স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ‘মুকুল হোসেনের বিয়ে হয়েছে। তিনি এক সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকায় সম্প্রতি তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার বিকেলে মুকুল মা জবেদা খাতুনের কাছে ভাত চাইলে মা তাকে উপার্জন করার কথা বলেন। কাজ না করলে তাকে খেতে দেওয়া হবে না বলেও মান জানান। এতে মুকুল ক্ষেপে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান জবেদা খাতুন।’