সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশু সুরক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছি : তাসমিমা হোসেন

শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত নয়, চাই নিরাপদ পন্থা অনুসরণ: মোস্তাফা জব্বার

শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। তাই অনেক অভিভাবকই শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধা দেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, শিশুদের প্রযুক্তির ব্যবহারে নিরুৎসাহিত না করে নিরাপদভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি মনে করেন, শিশুদের পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা দেওয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে। এখন ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহন শুরু হবে। এই জন্য আইসিটি বিভাগ অনেক কনটেন্ট তৈরি করেছে। তিনি বলেন কনটেন্টগুলোকে শিশুদের উপযোগী করে করতে হবে। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কে এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল রবিবার ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স বিটিএস আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষা প্রেক্ষাপট ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সহযোগিতা করে সেভ দ্য চিলড্রেন। সভাপতিত্বে করেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স সভাপতি তাসমিমা হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ন ম আজিজুল হক, সমাজসেবা অধিদপ্তর মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম, এনসিটিবির শিক্ষাক্রম বিষয়ক সদস্য অধ্যাপক মোঃ মশিউজ্জামান ও অধাপক রিয়াজুল হাসান , সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্নেন্স ও চাইল্ড প্রটেকশন ডিরেক্টর আবদুল্লা আল মামুন। সাবেক সচিব বিটিএস উপদেষ্টা মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সিকদারের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএস নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা। অনুষ্ঠানে করোনাকালে শিশুর সুরক্ষা বিষয়ে একটি জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে ৫০১ শিশুর মতামত তুলে ধরা হয়।

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। তিনি সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফির অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, কারো জানা মতে এমন ওয়েবসাইট চালু থাকলে আমাদের জানালেও তা বন্ধ করা হবে। তাসমিমা হোসেন বলেন, একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশু সুরক্ষার পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স যখন যাত্রা শুরু করেছিল তখনকার সাথে আজকের অবস্থানের পার্থক্য দেখে আমি খুবই আশাবাদি। নীরবতা ভাঙ্গা শুরু হয়েছে। আমরা দেখে যেতে না পরলেও একটি সুন্দর বাংলাদেশ এই শিশুরা পাবে।

শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, শিশুদের বইয়ের বোঝা কমাতে ডিজিটাল ডিভাইসে পড়াশুনার ব্যবস্থা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারেন্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা সরকার ও সেবাদাতারা নিশ্চিত করবে। সরকার এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। শিশুদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে অভিভাবকেদের জন্য পেরেইন্টাল গাইডেন্স তৈরি করা হয়েছে। শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে শিশু ও কিশোর অপরাধ বেড়েছে। যশোর জেলে খুন ও ধর্ষণ আসামির চেয়ে শিশু উন্নয়ন সংস্থায় এই অপরাধের শিশু বেশি আছে। অধ্যাপক রিয়াজুল হাসান জানান, পাঠ্য বইয়ে শিশু নির্যাতন,বাল্য বিবাহ, যৌন নির্যাতন প্রভৃতি বিষয় অর্ন্তভূক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আ ন ম আজিজুল হক বলেন, দেশে বাল্য বিবাহের হার অনেক কমে গেছে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার বেস্টনীর মাধ্যমে দরিদ্র জনগনকে সহযোগিতা করে দারিদ্র্য কমিয়ে আনছে। অধ্যাপক মোঃ মশিউজ্জামান বলেন, আমরা শিশুর জন্য পড়াশুনার কথা বলতে গিয়ে তার অধিকার হনন যেন না করি । তার পিঠে বইয়ের বোঝা চাঁপিয়ে দিয়ে খেলার সময় কেড়ে যেন না নেই, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আবদুল্লা আল মামুন পরিবার ও সমাজকে শিশুর পাশে থাকার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমরা শিশুদের পরীক্ষার্থী না বানিয়ে শিক্ষার্থী বানাবো। করোনা ভাইরাস সংক্রমন চলমান সময়ে ্#৩৯;বাল্য বিবাহ, শিশু নির্যাতন ও যৌন নির্যাতন এবং অন-লাইন শিশু যৌন নির্যাতন্#৩৯; পরিস্থিতি শীর্ষক জরিপে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ বাল্যবিবাহ হয়েছে। বাল্য বিবাহ বৃদ্বির কারন সম্পর্কে র্দীঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, মহামরির কারনে দারিদ্রতা বৃদ্ধি পাওয়া, পরিবারের আয় বন্ধ হওয়া, মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া, অবিভাকদের অসচেতনতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও ধর্মীয় গোড়ামীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।