বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। তবে ওই নারীর শরীরে জোরপূর্বক ধর্ষণের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি মর্মে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ডা. মোমিন চৌধুরী ও ডা. নাদিরা বেগম।
একজন নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরেও কেন তার শরীরে কোন চিহ্ন পেলেন না চিকিৎসকরা তার ব্যাখ্যা দিতে হাজির হন হাইকোর্টে। পরে ওই দুই চিকিৎসক রিপোর্টের পক্ষে মৌখিক ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু আদালত ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে আদেশ দিতে চান। এ সময় চিকিৎসকরা ক্ষমা চান আদালতে।
এরপরই হাইকোর্ট রবিবার ওই চিকৎসকদেরকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। হাইকোর্ট বলেন, আমরা ক্ষমা করতে বসেনি, বিচার করতে বসেছি। এ ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক রিপোর্ট দেওয়ার কারনেই ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। যার কারনে ধর্ষকরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের উচিত ধর্ষণের ঘটনায় গুরুত্বসহকারে ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যাতে ধর্ষকরা কোনভাবেই পার পেয়ে না যান।
চলতি বছরের ৬ মার্চ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বান্ধবীর বিয়েতে যান ওই নারী। গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয়। সেখানে গিয়ে বখাটেদের দ্বারা উত্যক্তের শিকার হন এই নারী। পরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ১২ মার্চ তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ লাখাই থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিম।
ওই মামলায় মো. শিপন মিয়া (২২), মো. পারভেজ (২০), মো. হুমায়ুন মিয়া (২০), মো. শাহজাহান (২২), আফিয়া আক্তার (৩০), দেলোয়ার হোসেন দিলু (৪৫) ও রাবিয়া খাতুনকে (৩৫) আসামি করা হয়। এর মধ্যে প্রথম চার আসামি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। অপর আসামিরা এ কাজে সহায়তা করেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা করা হয়। এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চান গ্রেপ্তারকৃত আসামি রাবিয়া খাতুন। ওই জামিনের আবেদনের শুনানিকালে ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টে চিকিৎসকদের দেয়া মতামতের বিষয়টি নজরে আসে।
এরপরই হাইকোর্ট দুই চিকিৎসককে তলব করেন। তলবে তারা হাজির হয়ে যে ব্যাখ্যা দেন তাতে সন্তুষ্টু না হয়ে মেডিক্যাল রিপোর্টের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। তাকে সহায়তা করেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শামীম খান। আসামি রাবিয়া খাতুনের পক্ষে ছিলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল।