বাসে ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি: ড্রাইভার-হেলপার রিমান্ডে 

রাজধানীর বদরুন্নেসা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ঠিকানা পরিবহনের বাসচালক মো. রুবেল ও তার সহকারী মো. মেহেদী হাসানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২২ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন আরা এ আদেশ দেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণপদ মজুমদার। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, গত ২০ নভেম্বর সকালে ওই শিক্ষার্থী শনির আখড়া থেকে বদরুন্নেসা কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে বাসের কন্ডাক্টরের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় ওই শিক্ষার্থীর। বাস থেকে নামার সময় তাকে বলে একা পেলে দেখে নেবে এবং খারাপ কাজ করার কথা বলে। এর এক পর্যায়ে অজ্ঞাত কন্ডাক্টর অসৎ উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থীর ওড়না ধরে টান দেয় এবং খারাপ কাজ করার কথা বলে।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন তথা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজ মোল্লা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে, ধর্ষণের হুমকির ঘটনা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। তিনি লেখেন, আমার বাসা শনির আখড়া। এখান থেকে কলেজের (বকশী বাজার এলাকা) ভাড়া ১০ টাকা, প্রতিদিন ১০ টাকা দিয়েই যাচ্ছি। আজ কলেজে যাওয়ার সময় ঠিকানা বাসে করে গিয়েছিলাম। হেলপারকে ২০ টাকার নোট দিলে সে ভাড়া রাখে ১৫ টাকা। আমি তাকে ভালো করেই বলছিলাম আমার ১০ টাকা ফেরত দিতে, বাট সে দেয় তো নাই উল্টো বলে ‘দিমু না কী করবি কর’। এরপর চিল্লানোর পর সে বলে ‘গলা বড় করবি না, পাঁচ টাকা নে, না হয় নাইমা যা।’

ওই শিক্ষার্থী আরও লিখেছেন, বাসের একটা মানুষও তাকে একটা কথা বলে নাই। কেউ কিচ্ছু বলে নাই। ইভেন একটা পুলিশও ছিল, সেও কিছু বলে নাই। এরপর নামার সময় পাঁচ টাকা হাতে ধরায় দিয়ে বলে, ‘নে তোর টাকা, প্রতিদিনই তো আসবি, একদিন ধইরা...কোথাকার’। এই কথা যখন বলছে, তখন বাস অলরেডি রানিংয়ে, আমি তাকে কিছু বলার সুযোগও পাইনি আর বাসের নম্বর নোট করারও সুযোগ পাইনি। জোরে বাস টেনে চলে গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, হাফ পাসের নিতে বলায় এক সহপাঠীকে বাসের হেল্পার ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। এর প্রতিবাদে  রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বকশিবাজার মোড়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন। পরে  হাফ ভাড়া কার্যকর ও ধর্ষণের হুমকিদাতাকে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার দেন বিক্ষোভকারীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বিআরটিসি বাসের হেলপার মাকসুদুর রহমান টিটু দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আজকে যে ঘটনা শুনেছি, বাসের হেল্পার ছাত্রীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, তা কখনোই সমর্থন করা যায় না। আমাদেরও ঘরে মা-বোন আছে। আমরা এমন আচরণ কেন করবো? আমরা চাই, ওই হেলপারের উপযুক্ত বিচার হোক।’

গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে খণ্ড খণ্ড আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর শনির আখড়ায় ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে বদরুন্নেসা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে তাকে ধর্ষণের হুমকি দেয় বাসচালকের সহকারী। এর প্রতিবাদে রবিবার রাজধানীর বকশীবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার সহপাঠীরা। অবরোধের কারণে চানখাঁরপুল থেকে বকশীবাজার এবং বকশীবাজার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েট অভিমুখী সড়কে যান চলাচল কয়েকঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। একইদিন ঠিকানা পরিবহনের ওই বাসের ড্রাইভার মো. রুবেল ও হেলপার মো. মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।