প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতে খুলনার দাকোপের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসছে। পাখির কলকাকলিতে এ অঞ্চলের ছোট ছোট বিল ঝিলগুলো মুখরিত হয়ে উঠছে। কিন্তু স্থানীয় পেশাদার অসাধু শিকারিরা নানা কৌশলে অবাধে শিকার করে চলেছে অতিথি পাখি। এসব পাখি আবার অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে বিক্রিও করছে তারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার্থে সুদূর হিমালয়, সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান অঞ্চল থেকে অতিথি পাখি এ অঞ্চলে আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোচা, ডংকুর, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়া অন্যতম।
জানা গেছে, ৮০ দশকে এদেশে আশা অতিথি পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রজাতির। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা নেমে ৬০ থেকে ৭০ চলে এসেছে। স্থানীয় পেশাদার এসব শিকারিরা আইনের তোয়াক্কা না করে মেতে উঠেছে পাখি নিধনে। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাল, বিল, নদী ও মাঠ থেকে নাইলনের সুতার তৈরি ফাঁদে ও চোখে আলো ফেলে, কেঁচো দিয়ে বর্ষী পেতে, কোচ মেরে ও কারেন্ট জাল পেতে এসব পাখি শিকার করছে। প্রশাসন তৎপর হলে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এসব পাখি শিকার বন্দো হবে বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি জানান, প্রতি রাতে ধান ক্ষেতে বসে পাখির ডাকের সঙ্গে সুর মিলানো বাঁশি অথবা মোবাইল ফোনে রেকর্ড বাজিয়ে উড়ন্ত পাখিদের নিচে নামিয়ে ফাঁদে ফেলে অতিথি পাখি শিকার করছে। এসব পাখি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, তিনি পাখি শিকারিদের খোঁজ পাচ্ছেন না। তবে তার দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।