রাজৈরে শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড 

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামের ৫ বছরের শিশু আদুরীকে হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকালে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিদ্দিকুর রহমান। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, রাজৈর উপজেলার পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে রাজিব হাওলাদার (৩৮), কোদালিয়া বাজিতপুর গ্রামের মুহিত গাছীর ছেলে রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী (৩২) ও পিরোজপুর জেলার ভৈরমপুরের রফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৩১)। এছাড়া এ মামলায় বাগেরহাট জেলার সেলিম হাওলাদারের (৪১) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের সেনদিয়া জামে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় টুকু সরদারের মেয়ে আদুরী আক্তার (০৫) । নিহতের বাবা টুকু সরদার বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২২ ই সেপ্টেম্বর ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামী করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরে ওই মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামকে রাজৈর থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে তিনি পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মসজিদের পাশ থেকে আদুরী আক্তারের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মামলার চার আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তিন আসামী উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অদ্যাবধি পলাতক রয়েছে।

পিপি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আজ বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা এই মামলায় রায় প্রদান করেন। রায়ে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন ও একজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।  মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। মামলার রায় ঘোষণার সময় মামলার এক আসামী রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী আদালতে উপস্থিত ছিলো।  এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

নিহতের বাবা টুকু সরদার বলেন, আমার মেয়ে হত্যার রায়ে আমি খুশি হয়েছি। আমার সরকারের কাছে একটাই দাবী এই ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।