একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত শিক্ষাবিদরা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বাংলাদেশের দীর্ঘ পথ পরিক্রমার সাক্ষী তিনি। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, সমাজ সচেতন ও সংস্কৃতিমনা। তার প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে এই শিক্ষাবিদদের মনে নেমে এসেছে গভীর কালো মেঘের ছায়া।
ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি, পড়ালেখা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিও নিয়েছি। শিক্ষকতায় তার আগ্রহ ছিল। শিক্ষকতার বাইরেও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল। ভাষা আন্দোলনের সময় তার বয়স অনেক অল্প ছিল, তখন তেমন ক্যামেরাও ছিল না। তবু তিনি অনেক ছবি তুলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে তিনি বই লিখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তার নখদর্পণে ছিলো। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম শিক্ষাবিদ, সমাজ সচেতন ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শিক্ষক সমাজকে যেভাবে সংগঠিত করেছেন, সেটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি অতি সহজ সরলভাবে জীবনযাপন করতেন। শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যায় তিনি সামনে এসে দাঁড়াতেন। ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তান শাসন আমলে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপনে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আশা করি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম তার জীবন থেকে শিক্ষা নেবে।’
কবি-কথাসাহিত্যিক, অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান বলেন, ‘অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একদিকে ছিলেন বিখ্যাত অধ্যাপক, অন্যদিকে গবেষক হিসেবেও আন্তর্জাতিক মানের ছিলেন। তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকে যেভাবে বিশ্ব দরবারে নিয়ে গেছেন, দ্বিতীয়টি ওইভাবে পাচ্ছি না। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন।’
প্রসঙ্গত, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক ঘোষণা করে।