গেল অক্টোবর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যম্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যম্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
আগের মাস সেপ্টেম্বরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এক মাসের ব্যবধানে অক্টোবর মাসে দাম বেড়েছে চাল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদের। এ ছাড়া আলু, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, পেঁপের মতো সবজির দামও বেড়েছে। তাছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যেও খরচ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর পরের আগস্টে তা কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে আরো বেড়ে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশে দাঁড়ায়। নভেম্বরে জ্বালানি তেল ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর ফলে আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে বেশি। বিবিএস-এর হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্যপণ্যে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ আর শহরে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে বেশি। অক্টোবরে শহরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। বিবিএস-এর হিসাবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে সিমেন্ট, স্টিল, জ্বালানির কাঠ, গজ কাপড় ইত্যাদির দাম বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ওই অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাত্ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।