নিয়মিতই নিজের মৌলিক ও চলচ্চিত্রের গান দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিচ্ছেন সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা। পাশাপাশি টিভি অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। নিজের নতুন গান, কনসার্ট ও সংগীত ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
আপনার নতুন গান ‘রাত জাগা পাখি’ নিয়ে জানতে চাই—
কলকাতার ইন্দ্রজিত্ দাশগুপ্তের লেখা ও সুরে গানটিতে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বলিউডের গায়ক শাফকাত আমানত আলী। এরইমধ্যে গানটির একটি নান্দনিক মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করছি, দারুণ কথার এই গানটি সবার মন ছুঁয়ে যাবে।
শাফকাতের সঙ্গে পরিচয় ও কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ওনার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০১৫ সালে। তখন ওনার একটি গান আমি কাভার করলে খুবই পছন্দ করেন তিনি। এরপর ফোকফেস্টে প্রথম দেখা এবং কাজ নিয়ে আলোচনা করি। তারই ফল বলতে পারেন এই গান। শুধু এই গানটি নয়, তার সঙ্গে আমার আরো বেশকিছু প্রজেক্ট সামনে আসবে। শাফকাতের মতো এমন বড়মাপের শিল্পীর সঙ্গে গাইতে পারাও আমার জন্য সৌভাগ্যের।
এই গানটির বাইরে অন্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
সম্প্রতি সিনেমার গানসহ বেশ কয়েকটি গানের কাজ শেষ করলাম। এদিকে দীর্ঘদিন পর কনসার্ট শুরু হয়েছে। তাই এই মাসটি কনসার্ট নিয়ে বেশি ব্যস্ততা চলবে। পাশাপাশি শাফকাতের সঙ্গে একটি গজল শিগগিরই মুক্তি পাবে। এছাড়া আমার টিভি অনুষ্ঠান, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান নিয়েও ব্যস্ত থাকবো।
আপনি ‘সিঁথির অতিথি’ শিরোনামের একটি টিভি অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেন। গানের পাশাপাশি উপস্থাপনায় এলেন কেন?
এটাকে আমি ঠিক উপস্থাপনা বলবো না। লকডাউনে যখন ঘরে বসে ছিলাম তখন অনেকটাই হতাশায় ছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছিল, যেহেতু দেশ-বিদেশের অনেক শিল্পীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে সেহেতু এমন একটি কাজ করা যেতেই পারে।
শিল্পীদের এককভাবে গান রিলিজের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
দেখুন, আমরা শুধু এককভাবে গান রিলিজ দিচ্ছি, বিষয়টি তেমন না। লেভেল কোম্পানি থেকেও রিলিজ দিচ্ছি। তবে করোনার কারণে সব কিছুই অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এককভাবে রিলিজ একটু বেশি হচ্ছে। তাছাড়া লেভেল কোম্পানি থেকে রিলিজ দিলে গানটি তাদের হয়ে যায়, কিন্তু শিল্পীরা নিজের চ্যানেলে রিলিজ দিলে গানটি তারই থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি নিজের বাড়ি আর ভাড়া বাড়ির মতো আর কী!
প্রকাশ মাধ্যম উন্মুক্ত হওয়ায় শিল্পী ও গানের সংখ্যা বাড়লেও সেই হারে গান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে কী বলবেন?
গান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না, এটা ঠিক না। এখনো অনেক ভালো ভালো গান হচ্ছে। তবে এটা সত্য সস্তা গান কখনো জনপ্রিয় হয় না। সাময়িক সাড়া জাগালেও দ্রুত সেটা হারিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমরাই তো শ্রোতাদের কান তৈরি করি। টিকে থাকার মতো গান তৈরি করলে অবশ্যই সেটা জনপ্রিয়তার সঙ্গে বেঁচে থাকবে এবং সেটা বোঝা যাবে আরো ১০/১৫ বছর পর।
একটি গান জনপ্রিয় হলে সেটার দুই লাইন নিয়ে নতুন আরেকটি গান তৈরি করা হয়। এই কপি প্রবণতাকে কীভাবে দেখছেন?
আমার কাছে এই প্রবণতাকে এক ধরনের মার্কেটিং পলিসি মনে হয়। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিট গানের দুই লাইন নিয়ে অনেকেই অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছেন!
ভিউ গুণে গান ও শিল্পী মূল্যায়ন নিয়ে কী বলবেন?
আমি ভিউ শব্দটিতে বিশ্বাসী নই। আমার গানের ভিউ কম বা বেশি বলে বলছি না। আগের গানের তো ভিউগোনা হতো না। তাই বলে সেই গানগুলো জনপ্রিয় হয়নি, এটা বলা যাবে না। আবার এখন অনেক সস্তা গানের অনেক ভিউ হয়, ভালো গানের ভিউ কম হয়। ভিউ দিয়ে শিল্পী বা গানের মান বিচার করা যায় না।
ইত্তেফাক/বিএএফ