যশোরে ২৫৬ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই

হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে যশোরের ২৫৬টি বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এরমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলগালা করা ৫৫টি প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের বিষয় তার জানা নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ২০১টির বেশির ভাগ হালনাগাদ লাইসেন্স পেতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করেছে। তবে নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-সেবিকা, প্যাথলজিস্ট ও উন্নত চিকিৎসাসেবার পরিবেশ না থাকায় হালনাগাদ লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে জেলায় ৩২টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার হালনাগাদ লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার যশোর শহরের, অপর ১২টি বিভিন্ন উপজেলার।

সূত্র জানায়, যশোর জেলায় মোট ২৮৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে হালনাগাদ লাইসেন্স করতে ২৩ সেপ্টেম্বর একযোগে যশোর জেলার ১৬৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিককে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি পাঠান সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। পরে আরও ৭০ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় শোকজ নোটিশ। অনেকেই শোকজের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি হালনাগাদ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবিকা না থাকা, নিম্নমানের অস্ত্রোপচার কক্ষ, প্যাথলজি বিভাগের নোংরা পরিবেশ ছাড়াও পরীক্ষার নামে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত শয্যা চালুসহ অপচিকিত্সা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের কারণে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে জেলার ৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। অনিয়ম ও ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও নির্দেশনা দিয়েছিলেন সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা ও প্যাথলজিস্ট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান হালনাগাদ লাইসেন্স পাবে না। সেবার নামে কাউকে প্রতারণার সুযোগ দেওয়া হবে না।  হালনাগাদ লাইসেন্স করতে ব্যর্থ হলে সেসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হবে। আর বন্ধ ঘোষণা করার পরও যদি কোনো ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালু হয় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ক্লিনিক-হাসপাতাল মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিসিএইচডিওএ) জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জয়ন্ত বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি অর্থবছরে আমাদের লাইসেন্স নবায়ন করার কথা। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আমরা নিয়ম মেনে টাকা ও কাগজপত্র জমা দিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেলার সিভিল সার্জনকে পরিদর্শনের দায়িত্ব দেবেন। তার রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু জুলাই মাসে আবেদন করা হলেও পরিদর্শন হয়নি।

তিনি বলেন, অনলাইনে নবায়ন কার্যক্রম আমরা সমর্থন করি। কিন্তু ডিজি হেলথ থেকে সিদ্ধান্ত পাঠানো বিলম্বিত হচ্ছে। এজন্য আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করে বিভাগীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির কথা বলে আসছি।