জলবায়ু পরিবর্তনে ভাঙছে পাখিদের সংসার

শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখির ওপরও প্রতক্ষ প্রভাব বিস্তার করে জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাজার-হাজার পাখির বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে অ্যালবাট্রস প্রজাতির পাখির বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যালবাট্রস বিশ্বের সব থেকে বড় ডানাওয়ালা সামুদ্রিক পাখি। এরা সাধারণত সমুদ্রের মাছ খেয়ে জীবন যাপন করে। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরে দেখা যায় তাদের। অ্যালবাট্রস সঙ্গী বা সঙ্গীনীর প্রতি দায়বদ্ধ থাকে সব সময়। শোনা যায়, এই প্রজাতির পাখিরা মানুষের মতো সঙ্গী বেছে নেয়। তারপর সারা জীবন সেই সঙ্গীর সঙ্গে থাকে। তাদের বিচ্ছেদও অনেকটা মানুষের মতো। দুজনের মধ্যে যে কেউ অন্য সঙ্গী বেছে নিলে অপরজন সরে যায়। যা অন্য প্রজাতির পাখিদের মধ্যে বিরল।

রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসাগরের পানিতে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য অ্যালবাট্রস পাখির জীবনে পরিবর্তন হচ্ছে। কারণ এই সময়ে তারা মাছ শিকারের জন্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। পাঁচজন বিজ্ঞানী একটি গবেষণার পর জানিয়েছেন, মূলত মাছ শিকার নিয়েই সঙ্গী বা সঙ্গীনীর সঙ্গে মনোমালিন্য হচ্ছে এই প্রজাতির পাখিদের। যার ফলে তারা আলাদা থাকছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অকল্যান্ড দ্বীপে এই পাখি প্রচুর দেখা যায়। ২০০৩ সালে এখানে প্রায় ১৬ হাজার যুগল দেখা গিয়েছিল। তবে এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। বেশিরভাগ পাখি একা ঘুরছে, মাছ শিকার করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন অ্যালবাট্রস পাখির জীবনচক্রে প্রভাব ফেলেছে। যার জেরে তারা সঙ্গী ছাড়াই থাকতে শুরু করেছে। প্রজননেও যার প্রভাব পড়ছে। ফলে কমে যাচ্ছে এই পাখির সংখ্যা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনও পাখি প্রজননে অক্ষম হলে তার সঙ্গী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তার পরের মরশুমে সেই পাখি নতুন সঙ্গী খুঁজে নেয়। তা না হলে এই প্রজাতির পাখির বিবাহবিচ্ছেদ বিরল ব্যাপার। এখন প্রজননে সক্ষম পাখিকেও ছেড়ে যাচ্ছে তার সঙ্গী।

গত বছরের তুলনায় এবার অ্যালবাট্রস পাখির বিচ্ছেদের হার বেড়েছে আট শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া আর কোনও কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সামনেই প্রজননের মরশুম। আর এখন অকল্যান্ড দ্বীপে বহু পাখিকেই একা থাকতে দেখছেন গবেষকরা। যা চিন্তার ব্যাপার। সমুদ্রের জল আগের থেকে উষ্ণ হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে পাখিদের জীবনযাপনে। পাখিদের প্রজননেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক পাখিদের জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে।