তিতুমীরে মুখোমুখি সাধারণ শিক্ষার্থী-ছাত্রনেতারা 

দেশগঠনের কাজে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। তরুণদের গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি একরকম প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করে। সাংগঠনিক উপায়ে প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড সম্পাদন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের প্রত্যাশা ও অভিযোগের সমাধান করার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।

ছাত্রনেতাদের সামনে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানান প্রশ্ন এবং অভিযোগ তুলে ধরতেই গত শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে। এদিন সকালে তাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় 'খোলামত' নামের একটি আলোচনা সভা। ছাত্রনেতৃবৃন্দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শীর্ষক এমন অনুষ্ঠান তিতুমীর কলেজে এবারই প্রথম। ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কয়েকশ সাধারণ শিক্ষার্থী। 

ছাত্রনেতা বনাম শিক্ষার্থীদের এ আলোচনা সভার বিষয়বস্তু ছিলো 'আপনার জিজ্ঞাসা আপনার অধিকার'। তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামাল হায়দার, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল মোড়ল, তিতুমীর কলেজের বিতর্ক ক্লাবের সংগঠক ও বিতার্কিক জাবেদ ইকবাল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মাহমুদা হক মনিরা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ছিলো বাসের হাফ ভাড়া নিয়ে, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট, ক্যান্টিন নেই কেনো, লাইব্রেরি সংস্করণ, মেয়েদের কমন রুম, ওয়াশরুম সমস্যা নিয়ে, 
মেডিকেল ক্যাম্প, ক্যাম্পাসের জায়গা বৃদ্ধি, বাসের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার, নতুন হলের কাজ কবে শেষ হবে, বিভিন্ন সংগঠনের জন্য নিজস্ব কক্ষের ব্যবস্থা। মেয়েদের নামাজ পড়ার জায়গা তৈরি করা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোড়লের কাছে বাসের হাফ ভাড়া নিয়ে অন্য কলেজ আন্দোলন করলেও তিতুমীর কলেজের আন্দোলন না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত এক বছর আগে আমরা হাফ ভাড়া নিয়ে আন্দোলন করেছি এবং কলেজের সামনে দিয়ে যে সকল বাস যায় তার মালিকদের সাথে ও গুলশান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করেছি। যে কারণে এখন আমাদের আর আন্দোলন করতে হয় নাই। তবে সামনে যদি কোন আন্দোলন করতে হয় তাহলে অবশ্যই সেটা আমরা করবো। শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি ও আন্দোলনে সবসময় সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষতেও থাকবো।

কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদা হক মনিরা জুয়েল মোড়লের কাছে খাবার পানির সমস্যা, মেডিকেল ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা ও ছাত্রী হেনস্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে সাব্বির আহমেদ বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই খাবার পানির সমস্যা সমাধান করা হবে এবং কলেজে যে পুরাতন মেডিকেল ক্যাম্প রয়েছে যেটা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে না। তবে সেটি পুনরায় চালু করার জন্যে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আর ছাত্রী হেনস্তার বিষয়ে বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এই ধরনের কোনো অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

জাভেদ ইকবাল নামে এক শিক্ষার্থী রিপন মিয়ার কাছে কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বচন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু করোনার জন্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটা সম্ভব হয় নাই। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। আশা করছি খুব দ্রুতই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। 

ফজলে রাব্বি নামে এক শিক্ষার্থী কলেজে নতুন হলের কাজ কবে শেষ ও উদ্বোধন  হবে জানতে চাইলে জুয়েল মোড়ল বলেন, আমাদের ইচ্ছা ছিল বিজয় দিবসের আগে উদ্বোধন করার। কিন্তু ঠিকাদার আরও কিছু দিন সময় চাইছে। আশা করছি শিগগিরি বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফত কলেজে ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠার দাবি জানালে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরাও চাই দেশের সর্ববৃহৎ এই কলেজে ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠা হোক। যার জন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করবো। 

কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্যে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কলেজে আরও ৪টি বাস যুক্ত হবে।

পুরো অনুষ্ঠানটি তিতুমীর কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভবিষ্যতে এমন আরও আয়োজন করবে বলে জানায় তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সতিকসাস)।