২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৯০ হাজার ৩৪০টি। মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জনকে এবং জেলহাজতে রয়েছে ৭৫ হাজার ৯২৫ নেতাকর্মী। এই ১০ বছরে হত্যা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার কাছে বিএনপির জমা দেওয়া তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তালিকা জমা দেয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন খানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল।
তালিকায় ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন গুমের সংখ্যা ১ হাজার ২০৪ জন। এরমধ্যে থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে গ্রেফতার দেখানো হয় ৭৮১ জন এবং বিএনপির গুম ছিল ৪২৩ জন। বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম সংখ্যা ৭২ জন। এই ১০ বছরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে আহত হয়েছে ১০ হাজার ১২৬ জন বিএনপি নেতাকর্মী।
শুধুমাত্র চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৭৫ দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৪২৯টি, নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জনকে, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে চালান করা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৪ জনকে। জ্ঞাত ও অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৫। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৭২ জনকে। এই ৭৫ দিনে বিএনপির ৫১৭ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত অপর একটি চিঠিও ইসিতে জমা দেয় বিএনপি। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে তফসিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইসির কাছে অভিযোগ করে বিএনপি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
স্বামীকে কোর্টে হাজিরার সুযোগ চান সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী
স্বামীকে কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার দ্বারস্থ হয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী নাজমুন্নাহার বেবি। গতকাল বিকালে মিলনের পক্ষে তার স্ত্রী নাজমুননাহার বেবী এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে ইসিতে আসেন। বেবি সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামী কোর্টে হাজিরা দিতে পারছেন না। চাঁদপুর কোর্ট এলাকা পুলিশ, ডিবি ঘিরে রেখেছে। বোরকাপড়া কোনো নারী কোর্টে গেলে তার মুখোশও খুলে দেখা হচ্ছে। আমরা কোর্টে যেতে চাই। কিন্তু যেতে পারছি না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। পরে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানমের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছেন বিষয়টি দেখবেন।