চৈত্রের চিঠি

মহাদেব সাহা

 

আজ আমি পড়ন্ত ফালগুন, তাকিও না এই ঝরেপড়া

                                               চৈত্রের দিকে,

তাকিও না এই নিথর চোখের দিকে

ছায়াহীন নিষ্পত্র বৃক্ষের দিকে;

তার চোখে আজ শুধু খাঁখাঁ গ্রীষ্ম, দগ্ধ দুপুর

এখানে কোথায় তুমি মেঘের মাধুর্য পাবে, শান্তিজল

                                                       পাবে।

ফালগুন ফুরিয়ে গেছে আজ তার শুধু ঝরাপাতা।

 

যতোই দেখতে চাও আজো তার হাতে জাদু

উড়ন্ত ঝরনার দৃশ্য,

কিন্তু সেখানে এখন শুধু নিভে-যাওয়া মোম

বাতাসের দীর্ঘশ্বাস,

এই লজ্জিত মুখের দিকে ঘুরে তাকিয়ো না।

 

পরাজিত মানুষের উপাখ্যান যতো ছোট হয়

                                       সেই ভালো

তাকে আর দিও না বর্ষার পত্র,

বৃষ্টির ভরা আমন্ত্রণ

চৈত্রে পুড়ে তাকে আজ শুদ্ধ হতে দাও।

 

ফালগুনের নামে দিও না মাতাল শিস, বর্ষার নামে অধিক বর্ণনা

নির্জন ফুলের মতো আজ তাকে একা থাকতে দাও,

দিও না নিষিদ্ধ ফল, গোপন ইশারা

ফালগুন হয়েছে শেষ, তাকে দাও

                                   চৈত্রের গেরুয়া।