ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ কলাভবন থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে যায় গত মাসে। স্থানান্তরিত হওয়ার সময় বিভাগটির চেয়ারম্যানের রুমে ল্যাব ক্লিনিকের একটি নামফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ধরনের কোন ক্লিনিক বিভাগটিতে আদৌ নেই। শুধু রুম দখলে রাখার জন্য এ নামফলক লাগান বিভাগের চেয়ারম্যান।
যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফের দাবি, কলা অনুষদের ডিন মৌখিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে। অথচ কলাভবনের কক্ষ বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগটির কয়েক জন শিক্ষার্থী জানান, এ ধরনের কোনো ক্লিনিক বিভাগে এর আগে ছিল না। থাকলে আমরা জানতাম। এমনকি অবকাঠামোও নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের রুম দখল হয় এভাবেই। ক্ষমতার দাপট, সম্পর্ক, আর বেনামে নাম ফলক লাগিয়ে দখল রাখা হয় ভবনটির কক্ষগুলো। এক্ষেত্রে তোয়াক্কা করা হয় না কক্ষ বরাদ্দ কমিটির নির্দেশনা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, কিছু বিভাগের কাছে প্রয়োজনের চাইতে বেশি জায়গা রয়েছে। আবার কিছু বিভাগে শিক্ষকদের রুম আর ক্লাসরুম সংকটের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায় না। এমনভাবে দখলে রাখা হয়েছে পপুলেশান সাইন্সের ৪০৫১ ও ৪০৫২ নম্বর কক্ষ। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর কাউকে না জানিয়ে ৩০৭২ নম্বর কক্ষ দখলে নেয় মনোবিজ্ঞান বিভাগ।
কলা ভবন সূত্রে জানা যায়, ভবনটি থেকে সম্প্রতি পাঁচটি বিভাগ স্থানান্তরিত হয়েছে। এরপর শিক্ষকদের ৭০টি রুম ও পাঁচটি ক্লাসরুম খালি হয়েছে। কিন্তু সেসব রুম বুঝিয়ে না দিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন আগে যারা থাকতেন সে সব শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সভা করে এসব রুমে তালা লাগিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বরাদ্দের পর এসব রুম খুলে দেওয়া হবে বলে ঐ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলো কলা ভবন ছেড়ে যাওয়ার পর প্রায় ৭০টি রুম ফাঁকা হয়। এসব রুমে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকরা তালা মেরে গিয়েছেন। ফলে এক শিক্ষকের নামে দুই ভবনে দুটি রুম বরাদ্দ থাকছে। একটি রুম কলা ভবনে অন্যটি সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে।
জায়গার হিসাব দেয় না কোনো বিভাগ: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা যায়, কলা ভবনে কোনো বিভাগ কতটুকু জায়গা দখলে রেখেছে তা জানাতে বেশ কয়েকবার বিভাগগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু কতটুকু স্থান নিয়ে নিজেদের অবস্থান তা জানায়নি বিভাগগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। কমিটি প্রতিবেদন দিলে দ্রুত আমরা এর সমাধান করে দেব।