কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন

চলতি রবি মৌসুমে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ দিগন্ত জোড়া মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন কৃষকদের। খেতে চোঁখ জুড়ানো হলুদ সরিষা ফুলের মাদকতাময় ঘ্রাণে আগাম সরিষা চাষ করে দুই দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকের এই প্রয়াস। এখন হলুদের সমারোহ দেখা গেলেও অল্প সময়েই ফসল ঘরে উঠবে বলে আশা করছেন জেলার কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় সরিষা আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে জেলার বিস্তীর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে। এসব এলাকায় সরিষার আবাদ ভালো হওয়ায় বড় ও প্রান্তিক কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন নিজেদের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলার ৯টি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জমিতে এবারের সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। ইতিপূর্বে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ অর্জিত হলেও এবারে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ-ছয় মণ সরিষা পাওয়া যায়। আর বেশি কুয়াশা হলে সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি হতে পারে। সরিষা জমিতে বপন করার পর থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে পরিপক্ব হতে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের জমিতে সরিষা আবাদে খরচ কম হয় এবং ফলন বেশি হয়। আর এবারে ফুলের সৌন্দর্যই জানান দিচ্ছে ফলন ভালো হবে। ধান বা অন্য ফসলের চেয়ে সরিষার দাম বেশ ভালো পাওয়া যায় এবং চরাঞ্চলের জমিতে আবাদ করা সরিষার চাহিদাও প্রচুর। বন্যায় ধানসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সরিষা আবাদ আমাদের ভাগ্য ফিরিয়ে দেবে বলে আশা করছি।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর বন্যার কারণে কৃষকরা গত বছরের চেয়ে বেশি সরিষা চাষ করেছেন। বারি ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ জাতের এবং বিনা ৪ ও ১০ জাতের সরিষা জেলায় আবাদ হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা পেলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার কুড়িগ্রামে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।