ইবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ 

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৬ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ত্রিবেনী রোডের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে শিক্ষার্থীদের অপর একটি মিছিল একইস্থানে এসে মিলিত হয়। 

এ সময় তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী শ্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন ও প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ত্রিবেনী রোডের রবিউল ইসলামের মেসে থাকতেন ঐ শিক্ষার্থীরা। গুরুতর আহত আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দীনের স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ায় গত সোমবার রাতে বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছিলেন তারা। 

ছাত্রদের মিছিল। ছবি: ইত্তেফাক

পরে মঙ্গলবার রাতে ঐ মেস পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম তাদের মেসে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড়ে তার ঘুম ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন। পরে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে জাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের শাসান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দিয়ে মেস থেকে চলে যান। পরে জাহিদের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন স্থানীয় লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

হামলার সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালে কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং পুলিশও অনেক পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গুরুতর আহত কামাল উদ্দীন বলেন, ‘জাহিদ ভাই আমাদের মেসে এসে আমরা প্রতিনিয়ত চিল্লাচিল্লি করি বলে অভিযোগ করেন এবং আমাদের হুমকি দিয়ে মেস থেকে চলে যান। পরে তিনি ৩০ থেকে ৪০ জনকে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।’ 

অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আগামীকাল (৮ ডিসেম্বর) সকালে বসবো। কোনো কর্মকর্তা যদি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি ইবি থানা এবং শৈলকূপা থানার পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। ঘটনাস্থল ক্যাম্পাস থেকে কাছে হলেও শৈলকূপা থানা থেকে দূরে হওয়ায় হয়তো পুলিশের আসতে দেরি হয়েছে।’