মির্জাপুরে ৮ ইউপি নির্বাচনে ৪৪ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ”(স্বতন্ত্র)” নাম ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ৪৪ নেতা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যারা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এদের মধ্যে নিজ নিজ দলের সভাপতি-সম্পাদকও রয়েছেন। 

পদ পদবী থাকার পরও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিপুল সংখ্যক নেতা ”স্বতন্ত্র” নাম ব্যবহার করে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরেছে। ভোটারগনও পরেছেন চরম বিপাকে। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৫ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ৯৩ জন এবং মেম্বার সাধারণ (পুরুষ) আসনে ৩০৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ৫৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৮ জন, (স্বতন্ত্র) বিদ্রোহী ৪৪ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ২ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। আট ইউনিয়নে নৌকার টিকেট পেয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেনে- ০১ নং মহেড়া ইউনিয়নে সাবেক চার বারের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা বিভাস সরকার নূপুর, ০২ নং জমুকই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট মো. ইলিয়াস আহমেদ, ০৫ নং বানাইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট মো. আনিসুর রহমান হুমায়ুন, ০৬ নং আনাইতরা ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা মীর শরীফ হোসেন, ০৭ নং ওয়ার্সই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মো. মাহবুব আলম মল্লিক হুরমহল, ০৮ নং ভাতগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান কার্যকারী সদস্য তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন সিদ্দিকী, ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মো. হুমায়ুন কবীর এবং ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন। 

এদিকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নাম ব্যবহার করে বিদ্রোহী হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন ০১ নং মহেড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া, মো. আলী হোসেন, টিটুল মিয়া, মো. ইয়া-হিয়া এবং কৃষক শ্রমিক জনতারীগের মো. বাদশা। ০২ নং জামুর্কি ইউনিয়নে ফিরোজ আলম মোক্তার, ডি এ মতিন, গাজী আশরাফুল আলম এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল। ০৫ নং বানাইল ইউনিয়নে আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. ফারুক হোসেন, মো. জুলহাস হাসান খান, হাসান উদ্দিন, রাজিব খান ও মো. রেজাউল ইসলাম। ০৬ নং আনাইতারা ইউনিয়নে ইব্রাহিম খলিল, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ময়নাল হক, মোহাম্মদ আলী, বাবুল হোসেন বকসী, মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সুমন আহমেদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ০৭ নং ওয়ার্শি ইউনিয়নে সাদিকুল ইসলাম, এইচ এম আফজাল, মো. মাসুদুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান, আবু ইউসুফ শাহীন, সাইদুর রহমান খান, সোহরাব হোসেন, আইয়ুব আলী, মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মনির হোসেন খান ও মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল বাকী। ০৮ নং ভাতগ্রাম ইউনিয়নে সুব্রত চৌধুরী, দেওয়ান আব্দুর রউফ, মো. আজারুল ইসলাম আজাহার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাদৎ হোসেন। ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নে মো. ইসহাক আলী, মো. শাহ আলম, সুলতান মিয়া, ওয়াজেদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আব্দুর রাজ্জাক সিদ্দিকী  ও বাদশা মিয়া। ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নে মো. শামসুল আলম শামসু, এস এম রুবেল পারভেজ, হেলাল দেওয়ান, মো. রাল মিয়া এবং আজাহারুল ইসলাম।

দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বাঁশতৈল ইউনিয়নের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবকে সাধারন সম্পাদক মো. শামসুল আলম শামসু বরেন, বিপুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও  দল আমাকে মনোনয়ন দেননি। অন্য জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণ আমার সঙ্গে আছেন এবং আমি জনগণের প্রার্থী। আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারবো। একই অভিযোগ করেন, মনোনয়ন বঞ্জিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়ার্শি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহেল বাকী, সাধারন সম্পাদক মো. মনির হোসেন খান, বানাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মামীম কবীর শামীম এবং মহেড়া ইউনিয়নের মো. বাদশা মিয়া। তারা আরও অভিযোগ করেন, মির্জাপুরে সঠিক ভাবে মনোনয়ন না দেওয়ায় দলীয় প্রার্থীর ভড়াডুবি হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল এবং দপ্তর সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড সঠিক ভাবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। মির্জাপুরে আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত এবং নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী হবে। কিছু নেতা মনের কষ্টে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে কারও নির্বাচন করার সুযোগ নেই। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কোন নেতা দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে যাবে না। কোন নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিলে এতে দলের কিছু করার নেই। এটা তাদরে ব্যক্তিগত বিষয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরিফা বেগম বলেন, উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে গ্রহণের লক্ষে সকল প্রকার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।