যেভাবে রোহিঙ্গাদের কবল থেকে উদ্ধার হলো সেই ৪ শিক্ষার্থী

কক্সবাজারের রামু থেকে অপহৃত হওয়া চার স্কুল শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ৩ জন এবং শনিবার (১১ ডিসেম্বর) বাকি একজনকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানিয়েছে র‍্য্যাব-১৫। এ ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, শুক্রবার দুপুরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে এক অপহরণকারীকে আটক করে র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা। তার দেয়া স্বীকারোক্তি মতে বিকেলে অপহৃত ৪ জনের মধ্যে প্রথমে মো. কায়ছারকে উদ্ধার করা হয়। বাকি ৩ জনকে উদ্ধারে র‌্যাব এবং এপিবিএন অভিযান অব্যাহত রাখে। পরে সন্ধ্যায় এপিবিএন সদস্যরা শালবন পাহাড় থেকে দু'জনকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ৭ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ভোরে র‌্যাব সদস্যরা সর্বশেষ আরেকজনকে উদ্ধার করে অভিযান শেষ করে। 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার জানান, অপহরণকারীদের ধরতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কৌশলে টেকনাফের শালবন পাহাড় থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সেন্টমার্টিনে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ৭ ডিসেম্বর রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ মাঙ্গালাপাড়া বাতিঘর কটেজ এলাকা থেকে ৪ স্কুল শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে রোহিঙ্গারা। ওই ঘটনায় দুজন রোহিঙ্গার নাম উল্লেখ করে ৯ ডিসেম্বর টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভিকটিমের স্বজনরা।

রামু থানায় করা জিডি সূত্রে জানা যায়, রামুর পেচারদ্বীপের বাতিঘর নামে একটি কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয় ওই চার স্কুলছাত্রের। সে সুবাদে গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিম চার স্কুলছাত্রকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নিয়ে যান। ইব্রাহিম ও জাহাঙ্গীর দুজনই রোহিঙ্গা।

সেখানে বেড়াতে যাওয়ার পর থেকে ওই চারজনের খোঁজ মিলছিল না। পরদিন দুপুরে স্বজনদের কাছে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছিল। মুক্তিপণ না দিলে তাদের মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২৬ নম্বর ব্লকের মোহাম্মদ কাছিমের ছেলে। তার সহযোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বাড়িও সেখানে। তারা দুজনই বাতিঘর কটেজের বয় হিসেবে কর্মরত। অবশেষে অপহরণের চার দিনের মাথায় পৃথক অভিযানে চার স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার ও অপহরণে অভিযুক্তসহ চক্রের সদস্য মিলে ৮ জনকে আটক করা গেছে।