বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র ১৫তম জাতীয় কাউন্সিল আগামী ফেব্রুয়ারিতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জাতীয় পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালের এ সভায় সংগঠনটির পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সামনের বছর ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দুইদিন ধরে বিপ্লবী মৈত্রীর ১৫তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির ৪টি শূন্য পদে কো-অপ্ট করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুনভাবে অর্থ সম্পাদক হিসাবে রিয়ন রায়, দপ্তর সম্পাদক হিসাবে জাবির আহমেদ জুবেল, সদস্য হিসাবে মুনিরুজ্জামান ও হেমায়েত কবীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় কাউন্সিল সফল করতে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে জেলা, মহানগর এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সিল অথবা কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

কাউন্সিল সফল করতে সাদেকুল ইসলাম সোহেলকে আহ্বায়ক, দিলীপ রায় ও রনজু হাসানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২৩ সদস্য কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন,  ইকবাল কবীর, পলাশ বিশ্বাস, প্রদীপ মার্ডী, লিটন রায়, কৌশিক রায়, খালেদুর রাবি, রাসেল আলম, সৌমিক ডুমরী, রিয়ন রায়, জাবির আহমেদ জুবেল, মুনিরুজ্জামান মুনির, হেমায়েত কবীর, ফারহা তাহসিন, ফখরুল আহমেদ, জাকিরুল ইসলাম, শুভ মিস্ত্রি, শাকিল হোসেন, রায়হান বিশ্বাস, মিজানুর রহমান এবং পিকু মুরমু।

একই সঙ্গে জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে কর্মকাণ্ড সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সাদেকুল ইসলাম সোহেলকে আহ্বায়ক করে অর্থ বিষয়ক উপ-কমিটি, জাবির আহমেদ জুবেলকে আহ্বায়ক করে প্রচার ও সাংগঠনিক যোগাযোগ উপ-কমিটি এবং সরফরাজ সানোয়ারকে আহ্বায়ক করে ব্যবস্থাপনা ও আপ্যায়ন বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

জাতীয় পরিষদ সভায় সংগঠনের সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, করোনা মহামারীর কারণে আমরা যথাসময়ে কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারি নি। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি দেড় বছর আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে দেরিতে হলেও সংগঠনকে শতভাগ সক্রিয় করতে জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করা অবশ্য করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ছাত্র মৈত্রী স্পষ্টভাবেই মনে করে বিদ্যমান শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। সংগঠনের সেই ঘোষণাকে সামনে রেখেই ১৫তম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠন নতুন উদ্যমে অগ্রসর হবে। প্রতিষ্ঠালগ্নেই বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী দায়িত্বশীলতা ও সংগ্রামী মেজাজে এদেশের ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে এরশাদ স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে আপোষহীন লড়াই এবং শহীদদের জীবন দান, এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে ছাত্র মৈত্রী’র ঐতিহাসিক কর্তব্য পালন সময়ের দাবি।