শিশুদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার: তাসমিমা হোসেন 

দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, সন্তানের মা-বাবা হলেই হবে না, একই সঙ্গে যোগ্য অভিভাবকও হতে হবে। যেটি অনেক মানুষ বোঝে না। শিশুরা পরিবার ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে সবচেয়ে বেশি ধারণ করে। তাই শিশুদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

রবিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাক ভবনের কনফারেন্স হলে ‘চা-বাগান ও হাওর অঞ্চলের শিশুর উন্নয়ন নিয়ে আমাদের দায়িত্ব ও করণীয়’শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ইডিকো বাংলাদেশ ও দৈনিক ইত্তেফাক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

তাসমিমা হোসেন বলেন, ডিজিটালাইজেশন যে কতটা জরুরি সেটা আমরা পেনডামিক পরিস্থিতির সময় বুঝতে পেরেছি। ডিজিটালাইজেশনের জন্য আমরা অনেক অবদান রেখেছি। শিশুদের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। মানুষের সঙ্গে মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। বাল্যবিবাহ, ক্লাইমেট চেঞ্জসহ বিভিন্ন কারণে অটিস্টিক বাচ্চা বেড়ে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: আব্দুল গনি

তিনি আরও বলেন, আমাদের এতদূর এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে এনজিওদের অবদান রয়েছে। সার্টিফিকেট বেজ অনেক শিক্ষা হচ্ছে, তবে সেটার পুরোপুরি সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। কর্মমুখী শিক্ষা হলে একজন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে উঠেই নিজে কাজ করা শিখে যাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, দেশের সর্বক্ষেত্রে আজ উন্নয়ন হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের শিশুরা এখন আর আগের অবস্থায় নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে এখন হুইল চেয়ার উঠানোর বিশেষ পথ রাখা হচ্ছে। যেগুলো আগে কেউ চিন্তাও করেনি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, এসব কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমরা দেখেছি অনেক এনজিও গ্রামে স্কুল চালু করে পরে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তখন নির্মিত স্কুল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সেখানে মাদকের আড্ডা বসে, বিভিন্ন ক্রাইম সৃষ্টি হয়।

আলোচনা সভায় অতিথিরা। আব্দুল গনি

সভায় বক্তারা বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- পিছিয়ে পড়া হাওর ও চা-বাগানের শিশুদের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত জীবন-যাপন তারা বদলাতে চায় না। এটা পিছিয়ে পড়ার আরেকটা কারণ। এ সব চিন্তা-ভাবনার উন্নতি ঘটিয়ে তাদের উন্নয়নে দিকে অগ্রসর করাতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন- মহিলা ও শিশুবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এডুকো বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ। 

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান (এনসিটিবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর পরিচালক  ড. আব্দুল হালিম, রিফাত বিন সাত্তার, পরিচালক প্রোগ্রাম এন্ড প্লানিং ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিটি সেইভ দ্যা চিলড্রেন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের এর পরিচালক  আব্দুস শহীদ মহাম্মদ, সাজিয়া সুলতানা ও নুসরাত জাহান প্রমুখ।