‘অরুণা দিদির ছবির গল্পটিই হিরো’

ওপার বাংলার ‘রানি রাসমণি’ সিরিয়ালে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন অভিনেতা গাজী আব্দুন নূর। বর্তমানে কলকাতার কাজ থেকে দূরে থাকলেও দেশের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। নিজের অভিনয় ভাবনাসহ দুই বাংলার ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমানে হাতে কোন কাজগুলো রয়েছে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘পোস্টমাস্টার’ এবং ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত টেলিফিল্ম ‘শ্রাবণ জোসনায়’-এর কাজ শেষ করলাম। এছাড়া অরুণা বিশ্বাসের ‘অসম্ভব’ ছবিটির শুটিং করছি।

‘অসম্ভব’ ছবিটির গল্প ও চরিত্র নিয়ে জানতে চাই—
নির্মাতার কাছ থেকে এ নিয়ে বলা আমাদের বারণ আছে। তবে এটুকু বলতে পারি, ছবিটিতে মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও যাত্রাপালাকে তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া এতে একটি পরিবার, সমাজ, বাংলার গ্রামের প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে। বলতে পারেন, অরুণা দিদির ছবির গল্পটিই হিরো।

এ প্রজন্মের কাছে ‘যাত্রা’ নেতিবাচক একটি শব্দ। সেই জায়গায় এই ছবিটিতে এ বিষয়টি কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে?
হ্যাঁ, এটা সত্য যে, এখন যাত্রা মানেই অশ্লীল কিছু মনে করা হয়। তবে বিষয়টি কিন্তু তা নয়। সঠিক উপস্থাপনার মাধ্যমেও যে যাত্রাপালায় দর্শকদের বিনোদন দেওয়া যায় সেটা আমরা আগেও দেখেছি। মঞ্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যাত্রার দর্শক ছিল, আছে। সেটা আমরা শুটিং করার সময়ও দেখতে পেয়েছি। ছবিটিতে যাত্রার সুস্থ সময়কে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অরুণা বিশ্বাসের নির্মাণ নিয়ে কী বলবেন?
যদি অভিনয় থেকে কেউ পরিচালনায় আসেন তাহলে শিল্পীদের নিজেকে মেলে ধরা বা অভিনয়ের সুযোগ থাকে। অরুণা দিদির কারণেই সেটে একটা পারিবারিক আবহ তৈরি হয়েছে। এমন গুণী অভিনেত্রী-নির্মাতার ছবিতে কাজ করার জন্য অনেকগুলো কাজ ছেড়ে দিয়েছি।

নির্মাতাদের গল্পনির্ভর কাজের দিকে মনোযোগী হওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এটা খুবই ভালো একটি দিক। দর্শকদের স্বাদে ভিন্নতা আনতে গল্প, নির্মাণ, অভিনয় ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন জরুরি। একই ধরনের কাজ বারবার দেখলে দর্শকদের অরুচি আসবে।

তাহলে কী চলচ্চিত্রের ধারাবদল হচ্ছে?
দেখুন, প্রতিটি প্রজন্মের চাহিদা কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হয়। গল্পনির্ভর মানেই নাচ-গান, মারামারির বাইরে গিয়ে একটি গল্পকে মূর্ত করে তোলা। যখন দর্শক ছবির গল্প নিজের সঙ্গে মেলাতে পারবে তখন তারা সেই গল্পটিই দেখতে চাইবে। তবে একই ধারার কাজ করলেও হবে না, ভিন্নতা থাকতে হবে।

আপনাকেও গল্পনির্ভর কাজের বাইরে এখনো দর্শকরা দেখেনি। কেন?
হ্যাঁ, আমি একটু এ ধরনের কাজ বেশি করছি। তবে যে গল্প বা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকবে সেখানেই আমি কাজ করব।

আপনি ওপার বাংলায়ও কাজ করেছেন। দুই বাংলার ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমরা টেকনিক্যাল দিকে ওপার বাংলার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি। এমনকি আমাদের মিক্সিং করার মানুষ নেই! তাছাড়া আমাদের পেশাদারিত্ব ও মূল্যায়নের অভাব রয়েছে।

ওটিটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা?
ওটিটির কারণে আমাদের বাজারটি আরো বড় হয়েছে। শিল্পী, নির্মাতা-কলাকুশলীদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষা করে বাইরের দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আমিও ভালো চরিত্র পেলে ওটিটিতে কাজ করব।

ওপার বাংলার কাজে আপনাকে আবার কবে দেখা যাবে?
দেখুন, বির্তকের কারণে সেসময় চলে আসার পর থেকে ভিসা নিয়ে কোনো যোগাযোগ আমি করিনি। তবে হাইকমিশনের অনেকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। ওপার বাংলার অনেকেই কাজের বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমি কিছুদিন বাংলাদেশের কাজ করতে চাই। আমি যে বাংলাদেশের ছেলে তা চেনাতে চাই।