কক্সবাজারে মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশনের ফ্রি হাট 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন কক্সবাজার শহরের ক্রয়সামর্থহীন পরিবারের শিশু কিশোরদের জাতীয় পতাকার রঙের ডিজাইন করা দৃষ্টিনন্দন শীতের নতুন পোশাক ‘‘হুডি’’, বর্ণিল বেলুন, আর মিনি জাতীয় পতাকা তাদের জননন্দিত ‘ফ্রী হাট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনে পয়সায় প্রদান করে।

মনোমুগ্ধকর উপহার হাতে পেয়ে ঝিনুক কুড়নো শিশুরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে সৈকত জুড়ে। এইটুকুই শুধু নয় সুদূর ময়মনসিংহ থেকে একদল পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, এতিম শিশুদের বহন করে নিয়ে এসেছে সমুদ্র আর পাহাড় দেখাতে। তাদের থাকা খাওয়ার সুবন্দোবস্তও করা হয়েছে। 

আব্দুল মালেক (৪৪) ট্রেন দুর্ঘটনায় পঙ্গু। ভিক্ষে করে জীবন চলে। সন্তানসহ সস্ত্রীক সমুদ্র দর্শনে এসেও নিজেকে ঠিক বিশ্বাস করাতে পারছিলেননা যে স্বপ্ন দেখছেন? নাকি সত্যি! 

মদিনা( ৩৪) যার একমাত্র কাজ ছিলো সন্তান জন্ম দেয়া আর অন্যের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করা।সেও এসেছে তার সন্তান নিয়ে! সেও কেমন ঘোরের মধ্যে আছে!! হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাঁচজন এতিম ছাত্র যাদের খাওয়া পড়া জুটে অন্যের সহায়তায়। তাদের চোখ জুড়ে ঠিকরে বের হচ্ছে উচ্ছ্বাস। মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে এসেছেন তাদের একজন শিক্ষক। 

মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন

তিনি মহান আল্লাহ পাকের শোকরিয়া আদায় করে বলেন দেশের সব সংগঠন আর মানুষের ভাবনা যদি এদের মতো হতো তাহলে দেশটা আরো বেশী বদলে যেতো। এই দলের সফর সঙ্গী প্রত্যেকের কাছেই এই ভ্রমণ একটা স্বপ্নের মতো সুন্দর গল্প আর তাইতো সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা এর নাম দিয়েছে ইচ্ছেপুরণ।

কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টে সকাল ১১.৩০ মিনিটে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের উপস্থিতিতে কক্সবাজার মুক্ত দিবসে ব্যতিক্রমী কর্মসূচীটি পরিচালিত হয়। সারা বছরব্যাপী দেশীয় দাতাগণের অর্থায়নে নানা মানবিক এবং প্রকৃতি বান্ধব কর্মসূচি পালন করলেও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তারা ডিসেম্বর মাসজুড়ে সমগ্রদেশব্যপী ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু করেছে যার সূচনা হয় ১ ডিসেম্বর। 

ঢাকাস্থ কারওয়ান বাজারে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবুর উপস্থিতিতে। সৃষ্টির কল্যাণে স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৮ সালে সংগঠনটি নিবন্ধন লাভ করে।