হলুদের চাদরে ঢাকা পড়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াগাড়ি বিল ও তেকানী বিল এলাকা। চারিদিকে শুধু হলুদ সরিষা ক্ষেত আর মৌমাছির মৌ মৌ গুঞ্জন। সেখানে গেলে চোখের সামনে মিলবে হলুদ সরিষার দোল খাওয়া ও পাখির কিচিরমিচির কলকাকলি।
প্রতিবছর এই সময় এই এলাকায় প্রায় তিনশ বিঘারও অধিক জমিতে সরিষা চাষ করে কৃষকেরা। তাতেই হলুদে ভরে ওঠে ফসলের মাঠ। চারদিকে মনে হয় হলুদের রাজ্য। আর এই হলুদের রাজ্যে এ পাশ থেকে ও পাশ রাজত্ব করে মৌমাছি।
এক ফুল থেকে আরেক ফুলে মধু আহরণ করে পরিশ্রমী মৌমাছিরা। অন্যদিকে আশানুরূপ ফলন দেখে আনন্দে আত্নহারা হন এখানকার কৃষকরা। সবুজের ডোগায় হলুদ ফুলে কৃষক বোনে তার স্বপ্ন।
মিনাজুল ইসলাম নামের এক কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এসময় সরিষার ক্ষেত দেখে আমাদের মন ভরে যায়। বিঘাকে ছয় মণেরও বেশি সরিষা পাওয়া যায়। এবছর আমি এক বিঘার একটু বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছরে কুয়াশা বেশি হওয়ায় তেমন ফলন পাইনি। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সরিষার ফুল ঝরে গেছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে আছে আশাকরি এবার আল্লাহর রহমতে ভালোই ফলন হবে।
নাসিম নামের এক ভ্রমণপিপাসুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চারপাশের পরিবেশটাই অনেক সুন্দর। বছরের সবসময় এমন দেখা যায় না পাওয়া যায় না। এই একটা সময়ই এই রকম সৌন্দর্য্য দেখা যায়। তাই মনের আনন্দের খোরাক যোগাতে বছরের এই সময়ে আমরা ঘুরতে আসি। যেকেউ আসলেই এই প্রকৃতি দেখে মন ভালো হয়ে যাবে’।
সম্পূরক রবি শস্য হিসেবে এ এলাকার কৃষকেরা সরিষা চাষ করে থাকে। জেলার ৭ উপজেলা গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাদুল্যাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি জমিতেই সরিষা চাষ করা হয়ে থাকে। এসব সরিষাক্ষেত এখন হলুদ সরিষার ফুলে ভরে গেছে। এতেই কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে এ জেলার প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ১০ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছিল। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার চাষ বেড়ে গেছে।
জেলা কৃষি অফিস থেকে জানায় , এ বছর কৃষকেরা বারি ও বিনাসহ অনেক উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে কৃষকদের সরিষা বীজ প্রদান করা হয়েছে। চাষকৃত সব জমিতেই শতভাগ ফুল এসেছে। কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নানা রকম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আমরা আশাবাদী।
সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা লোকজন যেন সরিষার ফুল বা চাষে ব্যাঘাত না ঘটায় পর্যটকদের কাছে এটাই আশা করেন স্থানীয় কৃষকরা।
সাজেদুর আবেদীন শান্ত
ফিচার লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী