দুই হাজার টাকার জেরে খুন, ২২ বছর পর আসামি গ্রেফতার

ধারকৃত দুই হাজার টাকার জেরে চুনারুঘাটে শিশু সন্তানের সামনে বিধবা মা নূরচান বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যা করেছিলেন আদম খান উরুফে রফিক। ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদম খান ২২ বছর পলাতাক ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৯ এর অভিযানে আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, ৩১ মে ১৯৯৯ সালে আর্থিক লেনদেনের জেরে আদম খান ভিকটিম নুরচান বেগমকে তার তিন বছরের শিশু সন্তান তাজউদ্দিন এর সামনে পার্শ্ববর্তী জনৈক আছমত আলীর ঘরে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় নুরচান বেগমের ছেলে শফিক বাদী হয়ে হত্যা মামলা রুজু করে। 

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আদম খান জানান, হত্যাকাণ্ডের ১ বছর আগে সে ভিকটিম নুরচান বেগমের ছেলে শফিকের থেকে ২০০০ টাকা ধার নেন। এর চার পাঁচ মাস পর শফিকের বাবা মারা যান। মৃত্যুর পর নুরচান বেগমের পরিবার আর্থিক অনটনের কারণে ৩১ মে ১৯৯৯ সালে পাওনা টাকা চাইলে আদম খান টাকা না দেওয়ার তালবাহানা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে। 

তিনি আরও বলেন, এসময় ভিকটিম প্রতিবেশী আছমত উল্লাহর নিকট তার তিন বছরের কোলের শিশু তাজউদ্দিনকে নিয়ে ঘটনার বিচার চাইতে গেলে আদম খান পুনরায় আছমত উল্লাহর বসতঘরে এসে নুরচান বেগমকে গালিগালাজ এবং তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পার্শ্বে আঘাত করে। এতে ভিকটিম নুরচান বেগম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।