কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে দুর্গম কজইছড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র সদস্যরা অস্ত্রের মুখে দুই গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরা হলো শ্যামল চাকমা (৩০) ও শান্তিময় চাকমা (৪০)। স্থানীয়দের ধারণা সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া ইউপি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স সন্দেহে ইউনাইটেড পিপলস ডেমেক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) তাদের অপহরণ করেছে। তবে ইউপিডিএফ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অপহরণের বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নর দূর্গম কজইছড়ি পাড়ার বাড়িতে ওই দুই যুবক অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল সশস্ত্র সদস্য হেমন্ত চাকমার ছেলে শ্যামল চাকমা ও বিমেলেন্দু চাকমার ছেলে শান্তিময় চাকমার বাড়ী ঘেরাও করে তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তবে অপহৃত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যুবকদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।
তবে এ ব্যাপারে ইউপিডিএফের নেতাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অপহরণের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এসব কাজে ইউপিডিএফ জড়িত নয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইউপিডিএফ মৈত্রীময় সম্পর্কে বিশ্বাসী।
ঘাগড়া ইউপির ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মন্টু চাকমা জানান, অপহৃত শান্তিময় চাকমরা স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন মঙ্গলবার রাতে একদল সশস্ত্র সদস্য তাদের অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদ উল্লাহ জানান, অপহরণের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ বিষয়ে কেউ এখনো অভিযোগও করতে থানায় আসেননি। তবে তিনি ঘাগড়া বাজার সেক্রেটারী শান্তি মনি চাকমার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন তিনি তার নিকট হতে অপহরনের বিষয়টি শুনেছেন এবং কিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের একটি সংবাদ দেখেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর কাউখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঘাগড়া ইউনিয়নে আঞ্চলিক দলের সমর্থনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন।