ক্যাম্পাসের আঙিনায় বিজয়ের বর্ণিল সাজ

রাত পোহালেই বিজয়ের ভোর। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে দেশের নানা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। লাল-সবুজ আলোয় ঝলমল করছে ক্যাম্পাসের আঙিনা। এবারের বিজয় দিবস প্রতিবারের চেয়ে আলাদা, কারণ এবার বিজয় উদযাপনের সঙ্গে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের উদযাপন। 

দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। ভবনের দেয়ালে-দেয়ালে বর্ণিল আলো জানিয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পাসগুলো বিজয়ের এই দিনটি পালন করতে প্রস্তুত। দেশবাসীর সাথে এ দিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মাতবেন এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, ক্যাম্পাসগুলোর প্রশাসনিক ভবন, অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসভবনে ঝুলছে লাল-সবুজ সহ নানা রঙের বাতি। আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাহিদুল ইসলাম জানান, মহান বিজয় দিবসকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে সেজেছে নোবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায় প্রধান গেট, প্রশাসনিক ভবন, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, হলসমূহসহ ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়কসমূহ বাহারি রঙের ছড়াছড়ি। লাল-সবুজ মানেই বাংলাদেশ। লাল সবুজের আলোকসজ্জা যেন বাংলাদেশের বিজয়কে ফুটিয়ে তুলছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল্লাহ আল মাহবুব শাফি ও এস আহমেদ ফাহিম জানান, বিজয়ের এই সজীবতাকে ফুটিয়ে তুলতে নোবিপ্রবিতে নেওয়া হয়েছে দিনব্যাপী কর্মসূচী। সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিজয় র‍্যালীর মাধ্যমে কর্মসূচী শুরু হবে। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ১১টায় বীর মুক্তিযুদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১২টায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল, পিলো পাসিং এবং কুড়িতে বল নিক্ষেপ খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে বিকাল ৪ টায় বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচীর সমাপ্তি হবে। 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মোবাশ্বের আহমেদ জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের মূল ফটক, স্বাধীনতা স্মারক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল, কৃষ্ণচূড়া সড়ক, দেবদারু সড়ক সহ পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ক্যাম্পাসে মনকড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ সবাই। বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা এসেও বিজয়ের উল্লাসে মেতেছেন। বিভিন্ন রঙ ও বর্ণের এসব আলোকসজ্জা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ

রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে মো. ইমরান হোসেন জানান, বাহারি রঙের ছড়াছড়ি যেন পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে। সমগ্র ক্যাম্পাস মেতেছে যেন বিজয়ের উল্লাসে। আলোকসজ্জায় রঙিন ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে একখণ্ড লাল সবুজের পতাকায়। আলোরও আছে নিজের ভাষা। সে ভাষায় লাল সবুজ মানেই প্রিয় বাংলাদেশ। তাই আলোয় এই দুই রঙের প্রভাবই একটু বেশি। তবে আনন্দের এই রঙিন শহরে ঠাঁই হয়েছে নীল-হলুদসহ বাহারি আলোর।  

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিজয় র‍্যালি, শহীদ মিনার ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কলেজ ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চে  আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন ম্যাচ। 

এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নজরুল কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বড় পর্দায় বিকাল সাড়ে ৪টায়  সকল শিক্ষার্থীদের একযোগে সেই শপথ বাক্য পাঠ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। 

সরকারি বাঙলা কলেজ

সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে এবি আরিফ জানান,  কলেজের মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন, ফারুক চত্বর, শহীদ মিনারসহ দুই পাশের সীমানা প্রাচীর জুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজা‌নো হ‌য়ে‌ছে। বিজয় দিবসকে বরণ করে নিতেই বাঙলা কলেজে এই বর্ণিল সাজ। লাল, সবুজ, সাদাসহ বিভিন্ন রঙে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দল‌বেঁ‌ধে আ‌লোকসজ্জায় ঘেরা রা‌তের ক্যাম্প‌াস দেখ‌তে এসেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এস এম রায়হানুল নবী জানান, আলোকসজ্জা উপভোগ করতে অনেকেই ভীড় জমিয়েছেন ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য ও রাস্তা সমূহ  চির উন্নত মম শির আলোর মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের বিজয় উদযাপনে কিছুটা ভিন্নতা যোগ হয়েছে দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনীর মাধ্যমে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে দেয়ালিকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত দেয়ালিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের তৈরি করা দেয়ালিকা প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে আজ। ক্যাম্পাসের অন্যান্য সাজসজ্জার অংশ হিসেবে দেয়াল পত্রিকাগুলোও থাকছে। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাহাদ বিন সাঈদ জানান, সূর্য ঢলে পড়ার পর সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে জ্বলে ওঠে লাল-সবুজ আলো। আলোকসজ্জায় রঙিন ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছে একখণ্ড লাল সবুজের পতাকায়।

বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সন্ধ্যা থেকেই ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে বর্ণিল আলোকসজ্জা দেখে বেড়াচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মনকড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ সবাই। ঘুরে দেখার পাশাপাশি আবার অনেকে সুন্দর এ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেহেরাবুল ইসলাম জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছে নতুনরূপে। লাল-সবুজের সাজে ভরে গেছে পুরো আঙিনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে শান্ত চত্বর, ভাষা শহিদ রফিক ভবন, শহীদ মিনার, অবকাশ ভবন, ভিসি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, গতবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বিজয় উদযাপনে অংশ নেয়া হয়নি। এবার বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণিল এ আয়োজনে সকলে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার বাইরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইত্তেফাকের সংবাদদাতারা বিজয়ের সাজসজ্জার খবর জানিয়েছেন। তারা জানান, ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে নানান রঙের বাহারি আলো মেখে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীকে বরণ করে নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।