তিল ধারণের ঠাঁই নেই কক্সবাজারে

টানা তিনদিনের ছুটি উপলক্ষে কক্সবাজারে এসেছেন লাখো পর্যটক। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ও বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর, বিকেল এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার এসে পৌঁছান ভ্রমণপ্রেমীরা। নানা বয়সের পর্যটকে মুখরিত হয়ে আছে সমুদ্র সৈকত এবং পর্যটনস্পটগুলো। টানা তিনদিনের এ ছুটিতে পর্যটন নগরীতে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসময়ে প্রায় অর্ধহাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

শীতের কুয়াশা মাখা শীতল হাওয়ায় সূর্যাস্ত দেখতে লোকারণ্য সৈকতের বালিয়াড়ি। ভিড় রয়েছে হোটেল-মোটেল এলাকার অলিগলিতে। এতে তিল ধারণের যেন ঠাঁই নেই কক্সবাজারে। নগরীর বাইপাস সড়ক, ডলফিন মোড়, হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, শৈবালসহ সবখানেই তীব্র যানজট দেখা গেছে। যানবাহনের সাথে লোকজটও রয়েছে। বড় বাসগুলো টার্মিনাল এলাকায় থাকলেও মাঝারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি পর্যটন এলাকা ও শহরে ঢোকায় এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিমত স্থানীয়দের।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্বপালন করছেন ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। মাঠে টহল দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো।

সন্ধ্যায়ও ভিড় ছিল সৈকতে

ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান জানান, টানা ছুটিকে টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার  এসেছেন। কেউ এসেছেন বুধবার রাতে, আবার কেউ এসেছেন বৃহস্পতিবার সকাল-বিকেল ও রাতে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সপ্তাহ-পক্ষকাল আগে থেকেই আগাম বুকিং হয়ে আছে পর্যটনকেন্দ্রিক সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্বপালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটনস্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে।

গোসল করাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে পর্যটকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করছেন জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা।

চট্টগ্রামের উত্তর শুলকবহর এলাকা থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসা মারুফ হোসাইন বলেন, দীর্ঘ দুবছর করোনা ভীতির কারণে বেড়ানো হয়নি। বাবা বিদেশ থেকে এসেছেন মাসখানেক আগে। কাজ সেরে এখন সবাই ফ্রি। বিজয় দিবসের ছুটিসহ টানা বন্ধ পেয়ে সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার এসে সুগন্ধা পয়েন্টের সী প্রিন্সেস হোটেলে উঠেছি। পুরো হোটেলে পর্যটক ভর্তি বলে মনে হচ্ছে।

হোটেল দ্য গ্রান্ডী সীবিচ এর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, পর্যটন মৌসুমে কমবেশি পর্যটক নিত্যদিন কক্সবাজারে অবস্থান করেন। বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে একসঙ্গে অনেক লোক বেড়াতে এসেছেন। করোনা কালের ক্ষতি কাটাতে এভাবে পুরো মৌসুম ভর্তি থাকুক এমনটিই আমাদের কাম্য।

কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর এসোসিয়েশনের সদস্য ও দিগন্ত ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, ইনানী-হিমছড়ি, সেন্টমার্টিনসহ সকল পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। এ তিনদিন টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে চলাচল করা অর্ধডজনাধিক পর্যটক জাহাজের টিকেট আগাম বুকিং হয়ে আছে।

কলাতলীর সী নাইট গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী বলেন, হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণক্ষমতা রয়েছে তার চেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢেউয়ের সাথে খেলছেন পর্যটকরা। আনন্দে আত্মহারা হয়েছে অনেকে বিপদসীমার বাইরেও চলে যান। তাদের কিনারায় আনতে কাজ করার পাশাপাশি নিরাপদ থাকতে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সৈকতের সব পয়েন্টে লোকজন নামছে। তবে, সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটক সমাগম একটু বেশী হয়। পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সৈকতের ১১টি পয়েন্টে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা আছে। কোথাও পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পর্যটককে লক্ষী জ্ঞান করে তাদের নিরাপত্তায় সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করছে পুলিশ। যেকোনো ঘটনা রোধে, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরছেন। টহলে রয়েছে এলিট ফোর্স র‌্যাবও।