মাঠজুড়ে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন

সাতক্ষীরার তালায় মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষা ফুলের সমারোহ। চির সবুজের বুকে যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তালায় উপজেলায় সরিষার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর তালা উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ২০১৯ সালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৪১০ হেক্টর ও ২০২০ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৬০ হেক্টর। ওই বছর ৬২১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের টার্গেট ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বৃষ্টিপাতে চাষিদের কিছুটা ক্ষতিসাধন হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। এ বছর ভাল ফলনের জন্য টরি-৭, বারি-১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা চাষ করেছেন শতকরা ৯০ ভাগ কৃষক। বাকি ১০ ভাগ চাষ হয়েছে দেশী সরিষাসহ অন্যান্য জাতের।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মাঠে ক্ষেতের পর ক্ষেত সরিষার আবাদ দেখা গেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। সরিষার ফুলে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিরা মধু আহরণসহ ছেলে-মেয়ে সরিষা ফুলের ক্ষেতে বসে ছবিও তুলছে। তবে অনেক জমিতেই ফুল শেষ হয়ে ফল দেখা গেছে। ফলগুলো বেশ তরতাজা, যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে। এক বিঘা জমিতে এক কেজি সরিষার বীজ বপন করতে হয় সার বীজ কীটনাশকসহ সকল খরচ মিলে প্রায় তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘা প্রতি জমিতে চার থেকে পাঁচ মণ সরিষা হয়। সরিষা চাষ করতে প্রধানত ৪টি জিনিস প্রয়োজন হয়। এরমধ্যে রয়েছে ভালো বীজ, সার, সেচ ও যত্ন।

সুমুজদিপুর গ্রামের সরিষা চাষি মো. আতিয়ার মাহমুদ জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন এখন পর্যন্ত জমিতে বৃষ্টির কারণে সরিষা ফুল ঝরে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি আর না হলে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারবেন।

আরেক চাষি জেয়ালা নলতা গ্রামের তোরাফ শেখ জানান, তিনি ১০ কাঠা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে  ভাল ফলনের আশা করছেন তিনি।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, উপজেলার কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে সরিষা বীজ প্রদান করাসহ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে বা ক্ষেত পরিদর্শনসহ ভালো ফলন পেতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। চলতি বছর তালা উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অত্র উপজেলায় এবারও সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।