ঘিওরে চিকিৎসাবঞ্চিত মা ও শিশু রোগীরা

পরিবার পরিকল্পনা চিকিৎসকের কক্ষ তালাবদ্ধ ২০ মাস

ঘিওর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা| আর এ সমস্যা এক-দুই দিনের নয়| ২০ মাস ধরে নেই মা ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক| দীর্ঘদিন যাবত তার কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকার ফলে তালাটিতেও মরিচা ধরেছে| চিকিৎসক না থাকার ফলে এই বিভাগের জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণে এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঘিওর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মা ও শিশু রোগীরা| 

জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের (মা ও শিশু বিভাগের) চিকিৎসক শামীম মো. আকরাম ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন| সেই থেকে চিকিৎসকের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে| ঘিওর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মা ও শিশু রোগীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যায়| 

উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে ১৬০ জন গর্ভবতী মা এবং প্রায় চার শতাধিক শিশুর চিকিৎসায় অসুবিধা হচ্ছে| ঘিওর বটতলা এলাকার বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা এক নারী বলেন, ‘পরপর দুই দিন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার পাইনি| পরে জেলা শহরে বেসরকারি চিকিৎসক দেখিয়েছি|’

হাসপাতাল গেটে কথা হয় মাইলাঘী এলাকার জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে| দুই মাসের শিশুসন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন তার স্ত্রী| শিশুটির জন্মের পর থেকেই ঠাণ্ডা সমস্যায় ভুগছে| এর জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকে ডাক্তারও দেখিয়েছেন| এসেছেন বাড়ির অদূরের এই সরকারি হাসপাতালে| কিন্তু ডাক্তার না থাকায় ফিরে যান তারা|

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন পর্যায়ে নিজস্ব তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা করে| কিন্তু এই কেন্দ্রগুলোতে কোনো চিকিৎসক নেই| উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তাই একমাত্র ভরসা| তারা কোনোমতো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন| এর মধ্যে বড়টিয়া কেন্দ্রটি এক জন কর্মচারী দিয়ে চলছে পুরো অফিসের কার্যক্রম| তিনি দুই দিন স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম করেন| বাকি তিন দিন অনুপস্থিত থাকেন| কখনো কখনো হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন| কেন্দ্রগুলোতে সঠিক মনিটরিং ও তদারকি না করায় হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যেই চলছে চিকিৎসাসেবা|

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, তাদের জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল অফিসার দরকার| এই বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে| তিনি যথারীতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি অবগত করেছেন| এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন|