হাইড্রলিক হর্নে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী

যানবাহনে হাইড্রলিক হর্নের উত্পাতে অতিষ্ঠ নগরবাসী। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় এই হর্ন ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ নানা ধরনের যানবাহনে ব্যবহার করা হচ্ছে এই হর্ন। মাঝেমধ্যে অভিযানের নামে সংশ্লিষ্ট যানবাহন চালকদের নামমাত্র জরিমানা করেই দায় সারছে পুলিশ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাইড্রলিক হর্নের উচ্চ মাত্রার শব্দে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পথচারী ও শিশুরা। এতে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। বধিরতা, খিটখিটে মেজাজ ও বিরক্তি সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংকটাপন্ন রোগীর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ১৯৮৩ সালের মোটরযান আইন অনুযায়ী যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের জরিমানা মাত্র ১০০ টাকা। এই হর্নের দামও অন্যগুলোর তুলনায় খুব বেশি নয়। নগরীর দেওয়ানহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, কদমতলীসহ যে কোনো এলাকায় মোটর পার্টসের দোকানে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে এই হর্ন পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হলে এবং ক্রয় বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর হলে যানবাহন চালকদের মধ্যে এই হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসবে।

চিকিৎসকরা বলেন, মানুষের জন্য শ্রবণযোগ্য শব্দের সহনীয় মাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল। কিন্তু হাইড্রলিক হর্ন শব্দ ছড়ায় ১২০ ডেসিবল পর্যন্ত। এর স্থিতি ৯ সেকেন্ডের বেশি হলে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ এর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট এক আদেশে রাজধানী ঢাকার যানবাহনে হাইড্রলিক হর্নের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। কোনো যানবাহনে হাইড্রলিক হর্ন বাজানো হলে গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকার পর মনজিল মোরসেদের সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশেই হাইড্রলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু চট্টগ্রামে এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না কেউ।