যশোর জেনারেল হাসপাতাল

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসংকটে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, চিকিৎসকের ৫৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪৯ জন। শূন্য রয়েছে পাঁচ চিকিৎসকের পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট তিনটি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট দুটি পদ শূন্য। স্বল্প চিকিৎসকের পাশাপাশি পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শয্যার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী এখানে ভর্তি থাকেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের কাটাছেঁড়া রোগী দেখলেই এগিয়ে আসেন ওয়ার্ডবয়, আয়া বা ঝাড়~দাররা। রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিত্সাসামগ্রী কেনার শর্ট স্লিপ ধরিয়ে দেন। এরপর ইনজেকশন সিরিঞ্জ, স্যালাইন, সুঁই সুতো নিয়ে তারাই করেন চিকিৎসা। ক্যানোলা, ইউরিন ব্যাগ, খাদ্য গ্রহণের পাইপ লাগানোর কাজও করেন তারা। সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সময় চিকিৎসকের ভূমিকায় ওয়ার্ডবয় ও ঝাড়ুদারদের দেখা যায়।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসংকট রয়েছে। নতুন ৩২টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ সৃষ্টির ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাইনি, নিউরো সার্জারি, মেডিসিন, নাক কান গলা, কার্ডিওলজি, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের দুই জন করে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নিউরো মেডিসিন ও ইউরোলজি বিভাগের এক জন করে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নাক কান গলা, অর্থোপেডিক, চক্ষু, জেনারেল সার্জারি, নিউরো সার্জারি ও নিউরো মেডিসিন বিভাগের দুই জন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, আবাসিক চিকিৎসক এক জন এবং অ্যানেসথেসিয়া তিন জন। শূন্য পদ পূরণে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা তারা এখনো পাননি বলে জানান আরএমও।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে গড়ে ৪৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। এতসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সামাল দেওয়া কঠিন। দুই মাস আগেও চিকিৎসকের জন্য নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণের পাশাপাশি নতুন পদ সৃজনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপসচিবদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সারা বাংলাদেশের চিত্র। কিছু করারও নেই। তবে রেগুলার বেসিসে পাওয়া না গেলেও ‘অন কলে’ তারা আসেন।