টানা তিন দিনের ছুটিতে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে বেড়েছে পর্যটকের ভিড়। শীত মৌসুমে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশিবিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় এখানকার হোটেল, বিনোদন পার্ক ও রিসোর্টগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার থেকে হাজার হাজার পর্যটক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন সৈকতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পারকি সৈকতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা জাহাজটি কেটে ফেলার খবর। জাহাজটিকে শেষ বারের মতো দেখতেও অনেকে আসছেন।
সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের লোসাই পার্কসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকদের উল্লাসে মুখরিত রয়েছে দর্শনীয় স্থানগুলো।
আনোয়ারা উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাইক, সিএনজি, প্রাইভেট কারসহ নানা যানবাহনে করে আসছেন দর্শনার্থীরা।
অনেককেই দেখা যায় মাইক, সাউন্ড নিয়ে ট্রাকে করে নেচে নেচে আসতে। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে আবার কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ বাইক নিয়ে ছুটছেন, কেউ ঘোড়া দৌড়াচ্ছেন, কেউ সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ঘুরে ঘুরে।
অনেকে বন্ধুদের নিয়ে মেতেছেন ফুটবল খেলায়। সব পারকি সৈকতে এই সব দৃশ্যই চোখে পড়ে। বিশেষ করে সৈকতে আটকে থাকা বিশাল আকারের এমভি ক্রিস্টাল জাহাজ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
পটিয়া উপজেলা থেকে আসা শামসুল হক নামের এক যুবক বলেন, বাচ্চার পরীক্ষা শেষ। তাই বন্ধ পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শহর থেকে আসা শান্তা আক্তার জানান, আসলে সারা বছর তেমন কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই এই ছুটিতে বাবার সঙ্গে আনোয়ারায় ঘুরতে এসেছি। গতকাল মেরিন একাডেমি, কেইপিজেড ঘুরেছি, আজ পারকিতে আসলাম।
বিচে সৈয়দ নুর নামের এক দোকানির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সারা বছর লকডাউন-শাটডাউনের ফলে তেমন ব্যবসা হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটকরা আসা শুরু করছে। এতদিন অনেক কষ্ট করে দিন কাটাইছি। এই কয়টি দিন ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে।
পারকি বিচের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ তৌহিদ বলেন, পর্যটকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সব সময় চাই পর্যটকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে। তাদের গাড়ি, বাইকের নিরাপত্তা দিতে। মাঝে মাঝে অনেক পর্যটক আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তবুও সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করি। বিচে বাইক নিয়ে যাওয়ার নিয়ম নাই।
তবে বিচে প্রবেশ করার অনেক পথ রয়েছে, কেউ যদি লুকিয়ে অন্য পথ দিয়ে বাইক নিয়ে যায় তাহলে আর কী করার? পারকি বিচের সার্বিক অবস্থা নিয়ে পারকি বিচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এটা যেহেতু কর্ণফুলী থানার আওতায় তাই বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি এখানকার নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, প্রতিদিন বিচের বিভিন্ন স্পটে প্রশাসনের লোক নিয়োগ করা হয়। আর এটা টুরিস্ট স্পট। তবে এখানে টুরিস্ট পুলিশ আসে না। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করি।