যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো ইউক্রেন ও পূর্ব ইউরোপে কোনো সামরিক কর্মকাণ্ড চালাবে না, রাশিয়া এমন আইনি বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা চায় বলে জানিয়েছে মস্কো। ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে এবং ইউক্রেন সংকট নিরসনে দেশটি এ নিশ্চয়তা চেয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার ব্যাপক সৈন্য উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। ইউক্রেন আক্রমণ করতেই রাশিয়া এ সৈন্য সমাবেশ করেছে বলেও অনুমান তাদের। অন্যদিকে মস্কো বলছে, ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। রাশিয়ার চাওয়ার মধ্যে আছে ইউক্রেনকে কখনোই ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে না, তার নিশ্চয়তা। আছে ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং পোল্যান্ড ও বাল্টিক তিন দেশ লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া থেকে ন্যাটোর বহুজাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের কথাও। বাল্টিক এই তিন দেশ একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ছিল।
মস্কোর দাবিগুলো উত্থাপন করে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে সম্পর্ক পুনর্গঠনে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। এখনকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরো তীব্র হোক রাশিয়া এমনটা চায় না জানিয়ে রিয়াবকভ ওয়াশিংটনকে মস্কোর দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া জানাতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া পারলে শনিবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়; সম্ভাব্য ভেন্যু জেনেভাও হতে পারে।
রাশিয়ার এসব দাবিদাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ‘তাদের চাওয়ার মধ্যে এমন কিছু জিনিসও আছে, যা মেনে নেওয়া হবে না বলে রাশিয়াও জানে’, বলেছেন তিনি। কয়েক দিনের ভেতর ওয়াশিংটনও আলোচনার বিষয়ে আরো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে হাজির হবে, জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রসঙ্গে মিত্রদের সঙ্গে কথা বলবে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি। তিনি বলেন, ‘যার উপর ভিত্তি করে ইউরোপিয়ান নিরাপত্তা দাঁড়িয়েছে, তার মূল নীতির সঙ্গে আপস করতে পারি না আমরা। এছাড়াও সব দেশেরই বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজের ভবিষ্যৎ ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির যে খসড়া প্রস্তাবনা রাশিয়া দিয়েছে তাতে মস্কো ও ওয়াশিংটন তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডের বাইরে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার দাবির বেশির ভাগই যে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র মানতে পারবে না, তা মস্কোও জানে। কিন্তু এসব দাবিদাওয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন ন্যাটোর সঙ্গে দরকষাকষির রাস্তা তৈরি হবে, অন্যদিকে ইউক্রেনকে সামরিকভাবে চাপেও রাখা যাবে।