জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে শিখিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার পর সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তিনি ধাপে ধাপে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে দেশকে স্বাধীন করেন। তিনি শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার আদায়ে যে স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন তা আমাদের সম্পন্ন করতে হবে।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা পাকিস্তান আমলে রাস্তায় লড়াই করেছি রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য স্বাধীন বাংলাদেশেও আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে, এমনকি জেলও খাটতে হয়েছে, যা ছিল অনভিপ্রেত। আমরা নতুন প্রজন্মকে আগামী দিনের নেতৃত্বদানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই। এক্ষেত্রে আমরা ৩৮ বছর ধরে যে কথা বলে এসেছি তা হলো ঐক্য হচ্ছে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চালিকাশক্তি। ১৮ বছর সরকারে থেকে মানুষের জন্য যা করতে সক্ষম হয়েছি তা হলো উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপ প্রস্তুত করা। এজন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বঙ্গবন্ধুর একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছিলাম তার শিক্ষা ছিল ধাপে ধাপে উদ্দেশ্য সাধন করা। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষকে বসবাস করার ব্যবস্হায় আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। ভাণ্ডারিয়াসহ এসব এলাকায় মানুষের মধ্যে ‘হানাহানি-ঝগড়া-কাইজ্যা-ফ্যাসাদ’ হয় না। ব্যক্তি পর্যায়ে বা পারিবারিক পর্যায়ে দ্বন্দ্ব-কলহ সৃষ্টি হলে তা স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যেমন নিরসন করেন আবার আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ তা সমাধান করে দেয়। তাই এলাকায় মামলা-মোকদ্দমাও কম। এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং মানুষের কাছে ঐক্যের কথা বলায় সমাজে এই সুখ ও শান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবে একসময় ছাত্রলীগের আমার ঘনিষ্ঠ সহচর আজকের এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি ভাণ্ডারিয়ায় এসে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন শুভ উদ্বোধন করেছেন। এই ভবনটি নির্মাণের সূচনালগ্নে আমাদের ভূমিসংক্রান্ত কিছুটা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সে সমস্যা দূর করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছিলাম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আমাদের এ ভবনটির উদ্বোধন করবেন। এক্ষেত্রে আমাদের আশা পূরণ হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন-পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. সাঈদুর রহমান, পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান এনায়েত করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজামুল হক নান্না ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এহসাম হাওলাদার। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সীমা রানী ধরের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা উপস্থাপনা করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক। এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করেন।