গোবিন্দগঞ্জে ১৯ আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে আওয়ামী লীগের ১৯ জন নেতাকে স্ব-স্ব পদ থেকে অব্যাহতিসহ সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

দুই ধাপে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরমধ্যে চতুর্থ ধাপে আগামী ২৬ ডিসেম্বর ১৬টিতে এবং আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে একটিতে (কামারদহ ইউনিয়ন) নির্বাচন হবে। বহিস্কৃতরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

সাইফুল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত বুধবার থেকেই (২২ ডিসেম্বর থেকে) কার্যকর হবে। দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে ওইসব বহিষ্কৃত নেতা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, কাটাবাড়িতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, শাখাহারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবু সাঈদ মো. জাকারিয়া ও সদস্য মোজাফ্ফর রহমান সরকার, রাজাহারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক তারিক রিফাত ও সদস্য রেজাউল করিম, সাপমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য তোফাজ্জল হোসেন সরকার, দরবস্ত ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক মন্ডল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল হালিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সদস্য কাজী মো. সামিউল ইসলাম, তালুককানুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রহমান খন্দকার, নাকাইহাটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজু খন্দকার ও সদস্য আবদুল কাদের প্রধান, শিবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৌহিদুল ইসলাম, মহিমাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান, শালমারায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী ও রাসেল মোশারফ এবং কামারদহে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দলের ত্যাগী নেতা। তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু দল তাকে মুল্যায়ন করেনি। তাই জনগনের অনুরোধে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা করছেন। একই কথা বলেন নাকাইহাট ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজু খন্দকার।