স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়

সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে। কমলাপুর স্টেডিয়ামে তখন উপচে পড়া ভিড়। প্রেসবক্স হতে দেখা গেল গ্যালারির একটু জায়গাও ফাঁকা নেই। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল ফাইনালে বাংলাদেশ এবং ভারত লড়াই করছে। 

দর্শক খেলা দেখার জন্য লাইন ধরেও ঢুকতে পারেনি। ৫০ টাকা মূল্য টিকিট। কিছু কালোবাজারি টিকিট নিয়ে বেশি দামে বিক্রিও করেছে। তাতেও আফসোস নেই দূর দূরান্ত হতে আসা দর্শকের। নারী দর্শক এসেছেন খেলা দেখতে। সঙ্গে ছোট বাচ্চা নিয়ে এসেও গ্যালারিতে বসেছেন। কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের ফুটবল দর্শকও মাঠে। সবমিলিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারি অপরিসর মনে হচ্ছিল। বাফুফে আগেই বলেছিল, তারা খুব বেশি দর্শক মাঠে আসতে দিতে চাইছে না কোভিডের কারণে। ভারতের বিপক্ষে ফুটবল ফাইনাল যে কোনো দর্শক বাড়তি প্রেরণা পায়, মাঠে এসে খেলা দেখতে চায়।

সাফে এবার নারী ফুটবল দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আসছে। স্টেডিয়ামের আশপাশেও আছে অনেক ভবন। সেখানে বারান্দায় বারান্দায় নারী শিশুদের ভিড়। নির্মাণাধীন ভবনেও কয়েক শ দর্শকের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা। ফাইনাল দেখতে স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিলেন কয়েক হাজার দর্শক। চারদিক হতে গেট বন্ধ করে দেওয়ায় উপচে পড়া ভিড় ফুটপাতের বাইরে নেমে গেল। বাঁধল ট্র্যাফিক জ্যাম। ফাইনালের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে বসা দর্শক হাতের মুঠোফোনের লাইট জ্বালিয়ে এক সঙ্গে সবাই ভিন্ন এক পরিবেশ তুলে ধরলেন। অসাধারণ লাগছিল সেই ছবিটা। মাঠে তহুরা, রিতু, আনাই, নীলা, মারিয়াদের লড়াই যেন আরো বেশি প্রাণবন্ত লাগছিল। সবুজ টার্ফের ওপর লাল সবুজের ফুটবল নৈপুণ্য চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল। এত দর্শক উপস্থিতি আর তাদের গগনবিদারী আওয়াজ ফুটিয়ে তুলেছিল এদেশের দর্শক ভালো ফুটবল দেখতে চায়। বাফুফে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে ভালো খেলা দেখার দর্শকের অভাব হবে না।