রাজশাহী স্টেডিয়ামের সাবেক কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ওরফে কালু মিয়ার চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করছেন তার স্ত্রী বেবী বেগম। ওষুধের টাকা ও সাংসারিক খরচ জোগাতে ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান বেবী বেগম।
স্পোর্টস ম্যান কালুর মেয়ে সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, 'ছোটবেলা থেকেই বাবার খেলাধুলার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিল। জন্মগতভাবে এক পা ছোট হওয়ায় খেলোয়াড় হতে পারেনি। আর্থিক সমস্যার কারণে লেখাপড়া না করতে পারলেও স্টেডিয়ামে ঘোরাঘুরি করতেন তিনি। খেলা চলাকালে বল কুড়ানো, স্কোর বোর্ডয়ের রান পরিবর্তন এসব স্বেচ্ছায় করতেন। পরে এখান থেকে স্বল্প উপার্জনেই তিনি সংসার চালাতেন। পরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রেন স্ট্রোক করলে স্টেডিয়ামে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। এর ফলে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারেন না। বাবার ডাক্তার দেখানো, ওষুধ কেনা এবং দুবেলা খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে মাকে'। এর আগে স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্রিকেট বলের আঘাত পাওয়ায় বাবার বাম পায়ে অপারেশন করাতে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, 'ইন্টার পাশ করার পর টাকার অভাবে মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও ভর্তি করাতে পারিনি। স্বামীর চিকিৎসার জন্য মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা লাগে। চিকিৎসা খরচ ও সংসার খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে চাইতে হয়। এর আগে আমার স্বামীকে দেখতে এসে ক্রিকেটার সাব্বির কিছু টাকা দিয়েছিলেন। রাজশাহী ক্রীড়া সংস্থায় আবেদন করলে হাজার পাঁচেক টাকা দিয়েছিল। একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রলীগের এহসান মাহফুজের সাথে কথা হয়। তিনিও আমাদের সহযোগিতা করেন। এছাড়া পরে আর কেউ খোঁজ নেয় নি'।
আরও পড়ুন: চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১
তিনি আরও বলেন, 'মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা করে। সমাজের বিত্তবানরা আমাদের প্রতি একটু সদয় হলেই বাঁচতাম। আবার আমার ইন্টার পাশ মেয়েটার একটা চাকরির ব্যবস্থা হলেও আল্লাহ্ বাঁচাত'।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজ বলেন, 'আমি ওনাদের (কালু মিয়া) বাসায় গিয়েছিলাম। উনি খুবই অসুস্থ, ঠিকমত কথা বলতে পারেন না। আমরা ওনাদের জন্য ছোট একটা ব্যবসা দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু যথেষ্ট করা সম্ভব হয়নি। সমাজের বিত্তবানরা একটু একটু করে এগিয়ে আসলে খুব সহজে সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত'।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি