বাবার কোল থেকে হারিয়ে যাওয়া তাবাসসুমকে পাওয়া গেলো কফিনে

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাফেজ তুহিন শুক্রবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে অভিযান-১০ লঞ্চে ফিরছিলেন গ্রামে। লঞ্চে যখন আগুন লাগে তখন প্রাণ বাঁচাতে আড়াই বছরের সন্তান তাবাসসুমকে নিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে ঝাঁপ দেন নদীতে। কিন্তু তীরে এসে দেখেন শিশু তাবাসসুম আর কোলে নেই। কখন যে হাত ফসকে নদীতে নিরুদ্দেশ হয়েছে সেটা টের পাননি বাবা তুহিন।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সন্তানের খোঁজে কখনো হাসপাতাল আবার কখনো নদীতীরে ছুটে বেড়ান তুহিন। অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন।

বাবার  হাত ফসকে নদীতে হারিয়ে যায় মেয়েটি। শুক্রবার রাতের এক সময় উদ্ধারকারীরা সুগন্ধা নদী থেকে শিশু তাবাসসুমের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর সামাজিক মাধ্যমে তার ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে শিশুর পরিবার শনাক্ত করেন নদীতে হারিয়ে যাওয়া লাশটি তাদের শিশু তাবাসসুম এর। এরপর লাশটি বরগুনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী এবং শিশুটির স্বজন শনিবার দুপুরে গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ফজিলা আক্তার পপি (২৯) নামের পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে।