সপ্তাহিক ছুটিতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অত্যধিক পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ দেখা যাচ্ছে। করোনাকালে পর্যটকশূন্য থাকলেও পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পর উদ্যানের বন্যপ্রাণী ও বন দেখতে পর্যটকদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানবাহনের শব্দ, অত্যধিক পরিমাণ পর্যটকের হুড়োহুড়িতে ভারী হয়ে উঠছে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর তিন দিনে লাউয়াছড়া উদ্যানে টিকিটধারী পর্যটক ছিলেন ৬ হাজার ৭০৫ জন। এরমধ্যে, শিক্ষার্থীর ১ হাজার ৫৪৮ ও বিদেশি নাগরিক ১৫ জন। যানবাহন ছিল ৩০৮টি। তবে টিকিটধারী ছাড়াও স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন আরো অনেক লোকের বিচরন রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে এক বছরেরও বেশি সময় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ছিল। ফলে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ চলাফেরা, গাছে গাছে তাদের লাফালাফি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পর্যটনকেন্দ্র খোলার পর থেকে পর্যটকদের বিচরণে সে দৃশ্য লক্ষণীয় নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বনকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে রেস্টহাউজ, নিসর্গসহায়তা প্রকল্পের আওতায় লাউয়াছড়ায় কয়েকটি ইকো-কটেজ, বাঘমারা এলাকায় স্টুডেন্ট ডরমিটরি, প্রকৃতি ব্যাখ্যাকেন্দ্র স্থাপনের ফলে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উদ্যানের গা-ঘেঁষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। সাজু মারচিয়াঙ, পরিবেশ কর্মীর আব্দুল আহাদসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, করোনাকালীন সময়ে উল্লুক, বানরের লাফালাফির দৃশ্য সচরাচর দেখা গেছে। পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সে দৃশ্য আর নেই। বন্যপ্রাণীর দেখা পেতে পর্যটকরা ভিড় করেন। বিশেষত ছুটির সময়ে অত্যধিক পরিমাণে পর্যটক, যানবাহনের হুড়োহুড়ি ও লোকে লোকারণ্য থাকে। এতে বন্যপ্রাণীর খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট সব মিলিয়ে উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে রীতিমতো উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
লাউয়াছড়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, অত্যধিক পরিমাণে পর্যটক বনের জন্য মোটেও সুখকর নয়। নিয়ন্ত্রিত পর্যটক হলে বন্যপ্রাণীর জন্য সবচেয়ে ভালো।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক দিন মানুষ বাইরে যেতে পারেনি। এ জন্য মানবিক কারণে তাদেরকে উদ্যানের ভিতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে অধিক পর্যটকের কারণে বনের ওপর প্রভাব পড়ছে। বন্যপ্রাণী দূরে চলে যাচ্ছে।