জব্বারের নামে তাঁর গ্রামের নামকরণ করা হয় জব্বার নগর

মাহমুদা আক্তার দৃষ্টি

মাতৃভাষার মর্যাদা রাখার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁরা ‘ভাষা শহিদ’। আব্দুল জব্বার তেমনি একজন বীর ভাষা শহিদ। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ১৯১৯ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম নেওয়া আব্দুল জব্বার স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষ্ট বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল পড়াশোনার পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপাড়া বন্ধ করে দিয়ে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন। তাঁর পিতার নাম হাসান আলী এবং মাতা সাফাতুন নেছা। আব্দুল জব্বার পনের বছর বয়সে নিজ খেয়ালে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমান মায়ানমার) পাঠিয়ে দেন। বার্মা থেকে দেশে ফিরে এসে আমেনা খাতুন নামে একজনকে বিয়ে করেন। আমেনা-জব্বার দম্পতির নূরুল ইসলাম বাদল নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আব্দুল জব্বারের পুত্র জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তাঁর শ্বাশুড়ি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন আব্দুল জব্বার। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থলে (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী হুরমুত আলীর রুমে ওঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্রদের পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হলে, কী হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং আব্দুল জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকেরা জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আব্দুল জব্বারকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। মহান ভাষা আন্দোলনে তাঁর মৃত্যুকে স্মরণ রেখে আব্দুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে গ্রামের নাম পাঁচুয়ার পরিবর্তে জব্বার নগর নামকরণ করা হয়।

ময়মনসিংহের গৌরব ভাষা শহিদ আব্দুল জব্বার বাংলাদেশের ইতিহাস ভাষা আন্দোলনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

দ্বাদশ শ্রেণি, ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ

ময়মনসিংহ