দেশের শিল্প-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে বিনাশর্তে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রবিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মিলিতভাবে এ দাবি তোলা হয়। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। চিঠিতে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং দেশের সব ব্যবসায়ীদের পক্ষে সময়বৃদ্ধির জোরাল দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ঋণ শ্রেণিবিন্যাস তথা খেলাপি না করার প্রয়োজনীয়তা গভীরতর হচ্ছে। বিগত সময়ে করোনার প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। করোনার শৈথিল্যে গত মাস কয়েক ধরে যে কর্মচাঞ্চল্যের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা আবার গতিহীন হয়ে পড়ছে ওমিক্রনের কারণে। বিশ্ব জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনো অজানা। এ অবস্থায় ঋণ শ্রেণীকরণের সময়সীমা না বাড়ালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
শুধু তাই নয়, খেলাপি হয়ে পড়লে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে আটকে যাবে ব্যাংক-উদ্যোক্তা সবাই। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে । গতকাল অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সভায় বলা হয়, এ সময়সীমা অন্তত জুন ২০২২ পর্যন্ত বাড়ানো হোক। এজন্য কোনো ধরনের শর্তারোপেরও বিপক্ষে তারা। কেননা, ক্ষুদ্র-মাঝারিসহ সবধরনের উদ্যোক্তারাই করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থায় কর্মসংস্থান ও জাতীয় প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনায় রেখেই কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো জরুরি।
এফবিসিসিআই সভাপতি গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলার অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রদেয় কিস্তিসমূহের ২৫ শতাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ শ্রেণীকরণ করার কথা বলা হয়েছে। অথচ কোভিড পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন দেশে কোভিড পুনরায় বিস্তার লাভ করায় লকডাউন ঘোষণা
করা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। সঙ্গতকারণেই শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ঋণের কিস্তি সময় মতো পরিশোধ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রদেয় কিস্তিসমূহের ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো না হলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হবে। যা ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সভায় তাড়াহুড়ো করে নতুন আয়কর আইন চূড়ান্ত না করার আহ্বান জানান হয়। বলা হয়, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও উন্নয়নশীল দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের সবখাতের ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।