তেঁতুলিয়ায় কনকনে শীতে দুর্ভোগে মানুষ

তেঁতুলিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ| পৌষের তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ| তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে|

উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ও খবর নিয়ে জানা যায়, সকালে কুয়াশা না থাকলেও বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে| দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও তেমন তেজ থাকছে না| বিকাল হলেই উত্তর কোণ থেকেই বয়ে আসে হিমেল হাওয়া| এ হিমেল হাওয়ায় বাড়তে থাকে শীতের মাত্রা| প্রান্িতক মানুষগুলো শীত নিবারণে বাড়ির উঠোনে খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন| শীতের দাপটে নিম্নবিত্ত ও দিনমজুরদের কাজে যেতে সমস্যা হচ্ছে| তবে জীবিকা ও পরিবারের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই কনকনে শীতের মধ্যেই কাজে যেতে দেখা যায়| বোরো ধান, গম, ভুট্টাখেত ও চা-বাগানগুলোতে শীতে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমিকদের| শীত নিবারণে শহরের হাটবাজারের ফুটপাতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে| এসব ক্রেতার মধ্যে কেউ নিম্নবিত্ত, কেউ শ্রমিক আবার কোনো বিত্তশালীরাও কিনে নিচ্ছেন আধা পুরোনো শীতের কাপড়| সোমবার বিকালে ফুটপাতে দোকান থেকে শীতের কাপড় কেনার সময় কথা হয় আয়েশা খাতুন, জমিলা ও আসমা খাতুনের সঙ্গে| তারা জানান, শীতের কাপড় কেনার জন্য খঁুজছি| পছন্দ হয়েছে, তবে এখানেও দাম বেশি| এদিকে শীতের মধ্যে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ| হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে জ্বর-সর্দি, কাশি, অ্যাজমা, সাইনোসাইটিসসহ বিভিন্ন রোগীর ভিড় লক্ষ করা গেছে| শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিত্সকরা রোগীদের স্বাস্হ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছেন|

উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, পৌষ মাসের গত এক সপ্তাহ ধরেই তীব্র শীত দেখা যাচ্ছে| সঙ্গে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে| ২০ ডিসেম্বর থেকে ৮-এর ঘরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে| সোমবার সকাল ৯টায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে| ক্রমে শীতের তীব্রতা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি| তাই সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে| শীত মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে|