মামলার আসামি হয়ে কিভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী: প্রশ্ন ড. হাছান মাহমুদের

পুলিশকে ঘেরাও করে মারধর ও গাড়িতে আগুনের কয়েকটি মামলার আসামি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহম্মেদ কিভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করেন জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দলের অন‌্যতম মূখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি।  

রবিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতা রিজভী আহম্মেদের সাম্প্রতিক বক্তব‌্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

বিএনপি প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গণ করছে জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'যারা প্রতিনিয়ত আচরণ বিধির কথা বলেন, তারা নিজেদের কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার লাঠি আর বাঁশ দিয়ে যেভাবে নির্বাচনী ফরম সংগ্রহ করতে গিয়েছেন এটা আচরণ বিধির কোথায় আছে?'

'পুলিশকে ঘেরাও করে মারধর, কিলঘুষি মেরে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, সেখানে আচরণ বিধির ১১, ১৮ সুস্পষ্ট লঙ্গিত হয়েছে। আর এই ঘটনায় পুলিশ তিনটি মামলা করেছে, যেখানে পল্টন থানার মামলা নং ২১ এবং ২২ এ রিজভী আসামি। পল্টন থানার মামলা নম্বর ২৩ এর ২৮ নং আসামিও রিজভী আহম্মেদ।'

'পুলিশের কাছে প্রশ্ন নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে তারা যে হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছে, সেখানে যিনি মামলার ২ নম্বর আসামি তিনি কিভাবে কার্যালয়ে বসে অন‌্য দলের বিরুদ্ধে মিথ‌্যাচার করেন, বিষোদগার করেন?'

এ সময় তিনি আরো বলেন, 'পুলিশের এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরুধ জানাবো, এই সকল মামলার আসামি রিজভী আহম্মেদসহ সমস্ত আসামিদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব‌্যবস্থা নেওয়ার জন‌্য।'

প্রধানমন্ত্রীর জীবন-সংগ্রাম নিয়ে চলচিত্র বানানোতে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে দাবি করে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'গতকাল বিএনপি নেতা রিজভী আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে কিছু বক্তব‌্য রেখেছেন। যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জীবন সংগ্রামের উপর নির্মীত ছবি নিয়ে আপত্তি করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে মিথ‌্যচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। সকাল-বিকাল তাদের দলীয় কার্যালয়ে মিথ‌্যাচার করাই হচ্ছে তাদের রাজনীতির মূল পতিপাদ‌্য বিষয়। বিদ্বেষ ছড়ানো, ঘৃণা বিদ্বেষ এবং মিথ‌্যাচারের উপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল  রিজভী আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব‌্য রেখেছেন।'

তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, যিনি আজকে শুধু বাংলাদেশের নেতা নন। তিনি পৃথিবীতে একজন অনুকরণীয় নেতা, তার কর্মকাণ্ডের কারণে তার নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে তিনি আজকে সমস্ত একজন অনুকরণীয় নেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন, বিশ্ব নেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন। তার জীবনের কর্মকাণ্ড, তার যে সংগ্রাম, তার উপর যে নিষ্ঠুরতা এ সমস্ত বিষয় নিয়ে একটি চমৎকার হৃদয় বিদারক একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে, ছবির নাম হচ্ছে হাসিনা এ ডটার্স টেল।

এই ছবিটাতে নিছক তার সাধারণ জীবন যাপন ও বঙ্গবন্ধুর হত‌্যাকাণ্ডের পর তিনি যে জীবন সংগ্রামের মধ‌্য দিয়ে জীবন অতিক্রান্ত করেছেন এবং মানুষের প্রতি তার যে ভালবাসা মমত্ববোধ, মানুষের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম এই বিষয়গুলো  উঠে এসেছে।

এর সঙ্গে রাজনীতি বা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব‌্যক্তিত্ব বিধায় রাজনীতির কিছু ঘটনা প্রবাহে ও বঙ্গবন্ধু হত‌্যার পর তার উপর যে নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে তা উঠে এসেছে। এর সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ এটা নিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী আহম্মেদ এই ছবির সঙ্গে  নির্বাচনের আচরণ বিধির কোথায় কি খুঁজে পেলেন সেটা আমার বোধগম‌্য নয়। তিনি এই প্রসঙ্গে যে ব্ক্তব‌্য রেখেছেন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরণের বক্তব‌্য নিন্দনীয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের গাত্রদাহের মূল কারণ হচ্ছে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোন শিল্পকর্ম বানানোর কোন ঘটনা প্রবাহ নেই। খালেদা জিয়ার জীবনী লিখতে হলে বলতে হবে পাঁচটি জন্ম দিনের কথা, তার নেতৃত্বে পরপর পাঁচবার বাংলাদেশ দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, দুই পুত্র দূর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার করেছে, দূর্নীতির দায়ে দশ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

তবে খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচিত্র বানাতে হলে একটি হরর মুভি বানাতে হবে। কারণ হচ্ছে ভৌতিক ছবিতে নায়িকা মানুষ পোড়ালে সেই পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে ঘুমাতে পারে না, পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে তার স্বস্তি হয় না। সুতরাং খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোন ছবি বানাতে হলে এগুলোই উঠে আসবেই।

সরকারকে অদ্ভুত প্রাণী বলার প্রতিক্রিয়ায় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'আসলে সরকার নয় রিজভী আহম্মেদ নিজেই একটি অদ্ভুত প্রাণীতে রুপান্তরিতে হয়েছেন। কারণ রিজভী আহম্মেদের মুখে কোন দিন হাঁসি দেখা যায়নি। উনি সকাল বিকাল মিথ‌্যা কথা বলেন মিথ‌্যাচার করেন।

সুপ্রিম কোর্টে ভোট চেয়ে মির্জা ফখরুল ও ড. কামাল নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'আপনারা নির্বাচনী আচরণ বিধির কথা বলেন! গতকাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে রীতিমত সমাবেশ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেথিয়ে মির্জা ফখরুল এবং ড. কামাল হোসেনরা ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন, এটা আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন।'

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাপা, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব‌্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু