মোদির ১২ কোটি রুপির নতুন মার্সিডিজে কী আছে

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি মোদির জন্য নতুন গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার দাম ভারতীয় মুদ্রায় ১২ কোটি রুপি।  

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন গাড়ি হচ্ছে মার্সিডিজ-মাইবাখ ৬৫০ গার্ড। এর আগে মোদি বছর দুয়েক ধরে ব্যবহার করেছেন, ল্যান্ড রোভার ভোগ এবং টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার। এসব ছেড়ে তিনি এবার জার্মানির এ বিখ্যাত কোম্পানির গাড়িকে বেছে নিলেন।

সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানানোর সময় মোদিকে এই নতুন সুরক্ষিত যানটি নিয়ে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দেখা যায়।

সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানানোর সময় মোদিকে এই গাড়িতে দেখা যায়। ছবি সংগৃহীত।

মোদির জন্য বিলাসবহুল এই মার্সিডিজ-মাইবাখ ৬৫০ গার্ড বুলেট প্রুফ বিশ্বে সর্বপ্রথম উন্মোচন করা হয় ২০১৯ সালে। আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে যখন এই মডেলের গাড়ি উন্মোচন করা হয়নি, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ২০১৬ সালে মাইবাখ এস৬০০ গার্ড লঞ্চ করে। সেসময় ভারতীয় মুদ্রায় এর দাম ছিল ১০ কোটি ৫০ লাখ রুপি।  

আর বর্তমানে মোদির নতুন গাড়ির দাম ১২-১৫ কোটি রুপির মধ্যে ট্যাক্স ছাড়া। 

মোদির এস ৬৫০ গার্ড-এর সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে হামলাকারীর যেকোন ধরনের  গুলি মোকাবিলা করার ক্ষমতা। এটি বুলেটকেও থামাতে পারে। এমনকি একে -৪৭-এর গুলির আঘাতও প্রতিহত করতে পারে। 

ট্যাক্স ছাড়া ভারতীয় মুদ্রায় এই গাড়ির দাম ১২ কোটি রুপি। ছবি সংগৃহীত।

এছাড়া বিলাসবহুল এই গাড়ি  বিস্ফোরণেও টিকে যাবে । দুই মিটার দূরত্ব থেকে যদি কেউ ১৫ কেজির বিস্ফোরকও ফাটায়, তাতেও এতে কোন প্রভাব পরবে না। এই গাড়ির জানালার ভিতরে রয়েছে পলি কার্বোনেটের আস্তরণ। মাইনজাতীয় বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে গাড়ির নীচের অংশেও রয়েছে বিশেষ সুরক্ষা। এমনকি যদি গ্যাস হামলাও হয়, তবে আরোহীকে পরিশ্রুত বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা করবে গার্ড। 

মোদির জন্য নতুন কেনা এই বিলাসবহুল গাড়ির ইঞ্জিন ৬.০ লিটার টুইন টার্বো ভি ১২। যা ৫০০ হর্সপওয়ার এবং ৯০০ নিউটন মিটার শক্তি উৎপাদন করতে পারে।  এই গাড়ির টায়ার পাংচার করেও বিপদে ফেলা যাবে। কারণ গাড়ির চারটি চাকাই নিরেট বা ফ্ল্যাট টায়ার। 

মোদির এস ৬৫০ গার্ড-এর সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে হামলাকারীর যেকোন ধরনের গুলি মোকাবিলা করার ক্ষমতা। ছবি সংগৃহীত

এই মুহূর্তে গাড়ির জগতে এটিই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। 

রাতের অন্ধকারে দূর থেকে যে কোনও বস্তুকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা রয়েছে এই গাড়ির। এমনকি চালকের উল্টোদিকের আয়নায় ব্লাইন্ড স্পট থেকেও যদি কোনও গাড়ি হামলা করতে চায়, তবে তা ধরা পড়বে চালকের চোখে। তথ্যসূত্র:  ফার্স্ট পোস্ট, এক্সপ্রেস ড্রাইভস।