উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জেঁকে বসেছে শীত। গত চার দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রায় পুরো উপজেলা। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা খুবই কম।
এতে বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে পাউবো বাঁধে ও চরাঞ্চলের মানুষ অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কুয়াশার কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে হাঁস-মুরগি। ইরি-বোরোর বীজতলা লালচে বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। অন্যদিকে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় বেড়েছে।
পাউবো বাঁধে আশ্রিত বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান (৭৪) জানান, কয়েক দিন ধরে অনেক শীত। টাকা না থাকায় গরম কাপড় কিনতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি। এদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ভিড় জমাচ্ছেন ফুটপাতে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে। থানাহাট বাজারের পুরান কাপড় বিক্রেতা রেজাউল করিম জানান, শীতের কারণে গরম কাপড় বেচা-কেনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাক্টর শ্রমিক মোকছেদ মিয়া জানান, পুরাতন কাপড় কিনে কোনো রকমে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দোলা জানান, আমরা ইতোমধ্যে ৩ হাজার কম্বল বিতরণ করেছি। আরো কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।