তরুণ প্রজন্মের কাছে ইত্তেফাক আস্থা, ভালোবাসা আর ভরসার অপর নাম। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সবার কাছেই ইত্তেফাক সর্বাধিক প্রিয় সংবাদপত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইত্তেফাক সবসময় নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সেই সঙ্গে প্রতিটি প্রজন্ম বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইত্তেফাক দুর্বার সাহসিকতায় বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ প্রকাশ করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে নির্মাণ করেছে সত্যের স্বচ্ছ আয়না। যে আয়নার ভেতরে আজকের তরুণরা দেখতে পায় আগামীর সম্ভাবনাময় সুন্দর ভবিষ্যৎ।
ইত্তেফাক বিশ্বাস করে, তারুণ্যের সঠিক বিকাশের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি আদর্শ রাষ্ট্র এবং সমাজ। দেশ ও সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা আর প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘন কালো মেঘের মতো সমস্যার সব জঞ্জাল দূরে ঠেলে আজকের তরুণরাই সমাজকে গড়ে তুলবে সুনীল আকাশের মতো সুন্দর। যে সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে সত্য আর ন্যায়ের আদর্শ এবং তা হবে পুরোপুরি কুসংস্কারমুক্ত। ইত্তেফাকই দেশের একমাত্র পত্রিকা যেখানে নিয়ম করে সপ্তাহে চার দিন মতামত পাতায় নতুন প্রজন্মের ভাবনার কথা প্রকাশিত হয়। যেখানে উঠে আসে দেশ ও সমাজ সম্পর্কে তরুণদের চিন্তাভাবনা। আর এভাবেই দেশের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণদের অভিমত পুরো দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যায়। যেহেতু ইত্তেফাক সর্বজনপ্রিয় পত্রিকা তাই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যারা রাষ্ট্রকাজে নিয়োজিত তারাও তরুণদের ভাবনার কথা জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সে হিসেবে বলা যায়, ইত্তেফাক নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের সব মানুষের সেতুবন্ধ প্রতিষ্ঠা করার মতো মহান কাজটি করে যাচ্ছে। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তরুণেরা যে কোনো বিষয়ে তাদের ভাবনার কথা জানিয়ে নিয়মিত লিখতে পারছে। এটি চারটিখানি কথা নয়। তরুণরা নবীন বলে অনেক জায়গায় তেমন মূল্যায়ন পায় না, অথচ ইত্তেফাক নবীন বলে অবহেলা না করে নবীনবরণের মাধ্যমে তরুণদের সাদরে গ্রহণ করে নিচ্ছে। বর্তমানে তরুণরা প্রযুক্তির আগ্রাসনে অনেকটাই বিপথগামী। সেই পথে থেকে সুপথে এনে তরুণদের পত্রিকামুখী করতে ইত্তেফাক কাজ করে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক দেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার প্রতিটি পৃষ্ঠায় জড়িয়ে আছে ইত্তেফাকের নাম। পত্রিকাটি সত্যের আলোকবর্তিকা হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানিয়ে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করেছে। স্বাধীনতার সবটুকু স্বাদ ইত্তেফাকে রয়েছে। কখনোই মিথ্যা নয়, সত্য যত কঠিনই হোক তার প্রকাশ হয়েছে এই পত্রিকায়। একাত্তরের পঁচিশে মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ইত্তেফাকের ভবনে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। সে আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হয়েও একটুও ম্লান হয়নি পত্রিকাটি, বরং আজ যুগে যুগে তা মানুষের কাছে হয়েছে আরো উজ্জ্বল ও অধিক সমাদৃত। গণমানুষের প্রিয় পত্রিকা থেকে কতটা বস্তুনিষ্ঠ আর কনটেন্ট-নির্ভর থাকতে হয় তা প্রমাণ করেছে ইত্তেফাক। সুসাংবাদিকতা এবং সত্য খবর হচ্ছে পত্রিকাটির মূল চালিকাশক্তি। ইত্তেফাকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ফিচার পাতাগুলোতেও রয়েছে তারুণ্যের আধিপত্য।
প্রতি বুধবারে প্রকাশিত প্রজন্ম পাতায় দেশের সম্ভাবনাময় ও সফল তরুণদের কথা প্রকাশিত হচ্ছে। যাদের সাফল্যের গল্প অন্যসব তরুণদের আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা বা উদ্যোগ গ্রহণে উত্সাহিত করছে। প্রতি সোমরার প্রকাশিত হচ্ছে ক্যাম্পাস পাতা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে তাদের ক্যাম্পাসের নানা খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনযাপন, সাফল্য আর অর্জনের কথা। তরুণদের ফ্যাশনে আগ্রহী করে তুলতে শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে কড়চা। পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে অনুশীলন পাতা। শিশুদের সুন্দর মনোজগৎ আর প্রতিভা বিকাশে প্রতি শুক্রবার প্রকাশিত হচ্ছে কচিকাঁচার আসর নামে জনপ্রিয় শিশুতোষ পাতা। যেখানে শিশুরা সুযোগ পাচ্ছে ছবি আঁকা ও লেখার। সাহিত্য পাতাতেও প্রকাশিত হচ্ছে তরুণদের লেখা গল্প, কবিতা। তরুণরা যেন শিল্প, সাহিত্য আর সংস্কৃতির চর্চায় নিমগ্ন থাকে, সেটাই ইত্তেফাকের প্রত্যাশা। এছাড়া ইত্তেফাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর, রাজনীতি, ইতিহাস, ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনোদন, চাকরির খবর, ক্যারিয়ার বিষয়ক নিবন্ধ তরুণদের জ্ঞানের পরিসীমা সমৃদ্ধ করে তুলছে।
বর্তমানে মানুষের অনলাইনে সংবাদ পড়তে আগ্রহ বাড়লেও ছাপা কাগজে ইত্তেফাকের পাঠকসংখ্যা কমে যায়নি। ছাপা কাগজের গন্ধে অফিস-আদলত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি থেকে শুরু করে মুদির দোকান—সব জায়গায় পঠিত হচ্ছে পত্রিকাটি। ৬৯ বছরের এই যাত্রায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তারুণ্যের অন্তরে যে দীপশিখা প্রজ্বলিত হয়েছে তা যুগে যুগে অম্লান থাকুক। তারুণ্যের জায়গানে দীর্ঘজীবী হোক সবার প্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাক।
লেখক: শিক্ষার্থী, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা।