অর্থনৈতিক বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণাঞ্চল 

রাত যত গভীর হয়, ভোর তত নিকটে। ঠিক তেমনি, দিন যত সামনে অগ্রসর হচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নগুলোও তত দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। স্বপ্ন কীভাবে পূরণ করতে হবে, তা শিখিয়ে গেছেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমেই সেই বীজ তিনি বাঙালি জাতির মনে বপন করেছেন। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন, তারই সুযোগ্য কন্যা বাঙালির স্বপ্নদাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অদম্য সাহসিকতা ও বিচক্ষণতায়, বাংলার মানুষ দেখছে স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। এর কতটা প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে? তা অনুমান করা দুরূহ। জানা গেছে, ১০০টিরও বেশি দেশে নতুন ভাইরাসের ধরন ছড়িয়েছে। তবে আশার কথা হলো, টিকা কার্যক্রমও পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। অর্থনীতিতেও দেখা যাচ্ছে গতিশীলতা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে স্বাধীনতার পঞ্চাশে এত আর্থসামাজিক উন্নয়ন ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমান করোনাকালেও থেমে নেই দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো; যা দৃশ্যমান হতে চলছে। ভয়াবহ মহামারির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন। গতিশীল হতে শুরু করেছে দেশের জনজীবন। খুব শিগগিরই দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী জুন-জুলাইতে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। সেই প্রত্যাশায় দিন গুনছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ভালো লাগার বিষয়টি সবারই জানা, বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে পদ্মা সেতু; যা বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। ইতিমধ্যে পায়রা সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। যার ফলে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নগুলো উঁকি মারতে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চল এবং অন্য অঞ্চলগুলো থেকে অনেকেই পদ্মার পাড়ে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে টুরিস্ট রিসোর্ট, আবাসিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ইত্যাদি নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছেন। আবার, অনেকেই বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করছেন। এতে করে বৃদ্ধি পাচ্ছে জমির চাহিদা ও মূল্য। খুব শিগগিরই বাড়বে শিল্পায়ন, হবে নগরায়ণ, বাড়বে কর্মসংস্থান এবং নতুন বাহন রেল সংযোগের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। 

ফলে আসবে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতিতে গতিশীলতা। কৃষকেরা খুব সহজেই তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে পারবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে; যা কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেবে। কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে বহু গুণ; যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে আসবে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং দ্রুত আমদানি-রপ্তানিতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে বন্দরগুলো। ফলে দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, পর্যটন ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। দক্ষিণাঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেবে। 

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের যে ধারা তা চলমান থাকলে তথা চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্যমে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তর সম্ভব হবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে—এমনই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে হলে, দেশের বেকার যুবসমাজকে কাজে লাগাতে হবে। দেশে উন্নয়নে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে। সে দিন বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি বরিশাল কলেজ, বরিশাল।