বিদায়ী বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল নতুন নামের কয়েক ধরনের মাদক। যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও ডার্কওয়েভে বিক্রি হচ্ছে নতুন ধরনের সব মাদক। দেশে এতদিন মূলত পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার থেকে মাদক আসলেও এখন পশ্চিমাবিশ্ব থেকেও আসছে মাদকের চালান। স্ক্যানার না থাকায় একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তা সারা দেশে। কৌশলী কারবারিরা নিজেদের কাছে মাদক না রেখে নানা বয়সি শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যবহার করে বাজার দখল করায় মূল হোতারা বরাবরই অধরা থাকছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ মতে, মাদকসেবীরা তাদের স্বাদের পরিবর্তন চায়। ফলে তারা নতুন মাদক চায়। তেমনি ব্যবসায়ীরাও মূল উপাদান ঠিক রেখে নতুন নামে এবং স্টাইলে মাদক বাজারে ছাড়ে। আর করোনার কারণে ঘরে থাকায় অনলাইনে মাদকসেবীরা এসব নতুন নতুন মাদকের খোঁজ বের করে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক গ্রহণের ফলে আসক্তদের দেহে এসবের প্রতিক্রিয়া কমে আসে। তারা উদ্দীপনার জন্য নতুন কিছু খুঁজতে থাকে। ব্যক্তিজীবনে হতাশা ও ব্যর্থতা ঢাকতেও শক্তিশালী মাদক খোঁজে তারা। মাদককারবারিরা তখন চাহিদা বুঝে নতুন মাদক সরবরাহ করে।
দেশে নতুন মাদক খাত, ম্যাজিক মাশরুম, ডিএমডি, ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন (ডিএমটি), লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি), ক্রিস্টাল মেথ বা আইস বা মেথামফেটামিন, ডিওবি, অক্সি মরফিন ও এস্কাফ সিরাপ। এর প্রতিটিই বেশ ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যারা এসব মাদক নিয়ে গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। এদের অনেকে বিদেশে পড়াশুনা করতে গিয়ে এ পথে পা বাড়িয়েছে।
র্যাব গত জুলাই মাসে ঢাকার হাতিরঝিল থেকে ম্যাজিক মাশরুমসহ দুই জনকে গ্রেফতার করে। গত জুন মাসে ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া থেকে এলএসডি মাদকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন জন ছাত্রকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের হাফিজুর রহমান নামে এক জন ছাত্রের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এ মাদকের সন্ধান পায় তারা।