পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সময়মতো চিকিৎসক না থাকায় গলায় ফাঁস দেওয়া রোগীর মৃতু্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার সময় জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে গিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা পরও কোনো চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ।
হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, রোগীকে মৃত অবস্হায় আনা হয়েছে। রোগী আনার দুই মিনিটের মধ্যে চিকিৎসক রাসেল আহম্মেদ ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কালী প্রসাদ রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপস্হিত হন।
জানা গেছে, পৌরসভার রহমানপুর চাত্রারপাড় এলাকার নবীবর রহমানের ছেলে আরিফ (২২) বৃহস্পতিবার রাতে গলায় ফাঁস দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, জীবিত অবস্হায় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
রোগীর ভাতিজা মিজানুর রহমান মানিক বলেন, প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে গলা ফাটিয়ে চিত্কার করেও কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে আরিফের মৃতু্য হয়। তারপরে চিকিৎসক রাসেল আহম্মেদ ও কালী প্রসাদ রায় আসেন। এজন্য লোকজন উত্তেজিত হয়ে অবরোধ করে ও হাসপাতালের স্বাস্হ্য কর্মকর্তা আর ঐ দুই চিকিৎসকের প্রত্যাহার দাবি করেন।
পরে পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র রাশেদুল ইসলাম সুইট ও পুলিশ গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
রাতে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেডিক্যাল অফিসার কালী প্রসাদ রায় বলেন, ‘প্রমাণ অনুযায়ী ৯টা ৩৫ মিনিটে রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। আমাকে জানানোর চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপস্হিত হই। তার আগেই ওয়ার্ডবয় প্রেসার মাপে, অক্সিজেন দেয়। কিন্তু রোগী মৃত ছিল। ঐ সময় রোগীর স্বজনরাও জানে রোগী মৃত।’
উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে সিসি টিভি আছে, রক্ষিত রেজিস্টার, রোগীর স্বজনদের বক্তব্য সবকিছু দেখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঐ রোগীর প্রাথমিক চিকিত্সায় কোনো অবহেলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। ভাঙচুরের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্হা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ